আজ ২৪শে জুন, ২০১৮ ইং; ১০ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; বর্ষাকাল

রাস্তা যখন মৃত্যুফাঁদ !!

  • 75
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    75
    Shares
মাহমুদুল হাসান রাহাত// মাকসুদুল আলম নাঈমঃঃপ্রেক্ষাপট ২০১৮। একুশ শতকের দ্বিতীয় দশক পার করছি আমরা।বাংলাদেশ এখন কাগজে কলমে উন্নয়নশীল ও নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ। উন্নয়নের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এবং তাঁর ভিশন ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
 
এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।
কিন্তু পিছিয়ে আছি আমরা!!!
 
আমরা বাকৃবি শেষ মোড় হতে গফরগাঁও এর লাখো জনগণ। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর গ্লোবাল কনসেপ্টে বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে পৃথিবীর দুই মেরুর দূরত্ব এখন সেকেন্ডের ব্যবধানেই পার হওয়া যায়। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের জনগণের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়নও অপরিহার্য।
 
ময়মনসিংহ হতে গফরগাঁও যাওয়ার মাধ্যম খাঁন বাহাদুর ইসমাইল রোডটি এখন আমাদের উন্নয়নের জন্য প্রতিবন্ধক স্বরূপ। এই রাস্তার পাঁচ মিটার অংশও চলার উপযোগী নয়। প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর স্কুল কলেজ যাওয়ার মাধ্যম এই রাস্তা,পেটের দায়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই এলাকার হাজারো কর্মজীবী মানুষ চলাচল করে এই রাস্তায়।
 
সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে এই রাস্তাকে রাস্তা না বলে মৃত্যুফাঁদ বলায় শ্রেয়। গর্ত খানাখন্দে পরিপূর্ণ এই রাস্তা। একেকটা গর্ত যেন মৃত্যরূপী যমরাজ হয়ে গিলে খায় যানবাহন গুলোকে।
 
এই রাস্তার প্রধান যানবাহন হচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি,রিকশা,বালুবোঝাই ট্রাক ইত্যাদি।
প্রতিদিনই এইসব যানবাহন উল্টে যাচ্ছে,ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা। যদ্দরুন আহত হচ্ছে হাজারো মানুষ। বৃদ্ধদের জন্য এই রাস্তা অভিশাপ,রোগীদের জন্য মৃত্যকূপ। একজন মুমূর্ষু রোগী,গর্ভবতী মহিলা এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বেচে থাকার লড়াইয়ে টিকে থাকার আশাটুকু করতে পারেনা। এইক্ষেত্রে চালক ভাইদেরও হাত পা বাধা।
কেননা এরূপ রাস্তায় চলা আর শ্বাপদসংকুল দুর্গম পাহাড় বেয়ে চলা সমার্থক।
 
আমরা আমজনতা এই রাস্তা নিয়ে বলতে গেলে একটা কথাই বলবো তা হচ্ছে-
দুর্ভোগ
দুর্ভোগ
দুর্ভোগ।
ভাড়া দিতে হয় দ্বিগুণ, সময় ব্যয় হয় তিনগুণ।
একজন ছাত্র সময়মতো ক্লাসে যেতে পারে না এই রাস্তার জন্য,
একজন চাকুরীজীবী সময়মতো অফিসে যেতে পারে না এই রাস্তার জন্য,
একজন কৃষক তার পণ্য সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারেনা এই রাস্তার জন্য যার ফলে সে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়,
একজন অসুস্থ মানুষ সময়মতো চিকিৎসা পায়না এই রাস্তার জন্য।।।
আর কতো,
আর কতো ভাবে ভোগান্তির স্বীকার হবো আমরা।
 
কিন্তু এক্ষেত্রে সরকার দলীয় নেতা,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা ব্যক্তিরা কোনো ভূমিকা রেখেছেন কী??????
এই রাস্তাটা প্রায় একযুগ ধরে এতিমের মতো মুমূর্ষু অবস্থায় মৃত্যুফাঁদ হয়ে পড়ে আছে,তাদের টনক এখনো নড়েনি।
অবস্থাটা এরমকম যে- জনগণ বাচুক,মরুক,দুর্ভোগ পোহাক তাতে নেতাদের কী!!!
তাদের বউ সন্তান এসির ঠান্ডা বাতাসের নিচে থাকলেই তাদের চলে। তাদের আছে শুধু লোক দেখানো ভাঁওতাবাজি, নেই জনগণের কল্যাণে কাজ করার বিন্দুমাত্র প্রয়াস।
 
ভাবতে অবাক লাগে,
আমাদের সংসদীয় আসনের সদস্য মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় এর মাননীয় মন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান স্যার এর বাসাও আমাদের এই আসনেই তবুও সামাজিক,অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি অবহেলায় সংস্কারের অভাবে এক যুগ ধরে মৃত্যুফাঁদ রূপে পড়ে আছে।
 
এই এলাকার ও এই রাস্তার উপর নির্ভরশীল আপামর জনগণের একটাই চাওয়া খুব দ্রুত যেন এই রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয় এবং তা যেন অবশ্যই টেকসই হয়।
মিথ্যা আশ্বাস ও চাটুকারিতা যেন জনগণের এই প্রাণের দাবী কে নিয়ে ছিনিমিনি না খেলে।
 
আমরা দ্রুত রাস্তার কাজ দেখতে চাই,দ্রুত সুন্দর একটা রাস্তা চাই।
 
দুবেলা দুমুঠো খেয়ে রাতে সুখনিদ্রা চাই,সকালে সুন্দর একটা রাস্তায় সুন্দর ভবিষ্যৎ এর লক্ষ্যে চলতে চাই।
 
সুখী সমৃদ্ধশালী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। আর তার জন্যে,
 
রাস্তা চাই
রাস্তা চাই
রাস্তা চাই
রাস্তা চাই
রাস্তা চাই।
প্রিন্ট করুন
মন্তব্য করুন