আজ ১৯শে জুন, ২০১৮ ইং; ৫ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; বর্ষাকাল

জাককানইবিতে উপাচার্যই সকল সমস্যার সমাধান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

মেহেদী জামান লিজনঃঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলন ও সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দক্ষতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়য়ের উপাচার্যই সকল সমস্যার সমাধানে নিজের ভুমিকা পালন করছেন।

সম্প্রতি, ১৩-১৫ মে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের  উপর হামলা, গাড়ি ভাংচুর, মহাসড়ক অবরোধ, সিনিয়র সাংবাদিকের কটুক্তি সব মিলিয়ে  বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষণিকের জন্য রচিত হয়েছিল এক কালো অধ্যায়। সেই আতঙ্ক থেকে বুদ্ধিদীপ্ত কর্মকাণ্ড দিয়ে সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমস্যা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একতা, এক নিষ্ঠ পথচলা সকল সমস্যা সমাধানে অগ্রনী দায়িত্ব পালন করে।

 

এক যুগে পা দেওয়া কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম  মোস্তাফিজুর রহমান স্যার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার ছয় মাসেই প্রমাণ করেছিলেন তার আদর্শিক এই বার সেটা যেন অপশক্তিদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন, তিনি থাকতে কেউ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর রাক্ষস হতে পারবেন না। উপাচার্য মহোদয় কেঁদেছেন কারণ তাকে  কতিপয় স্বার্থপর মানুষ ভালোবাসতে পারেননি, তিনি কেঁদেছেন কারণ তার সন্তানদের কেউ জখম করেছে, রক্তাক্ত করেছে, তার সহকর্মীকে লাঞ্চিত করেছে, কটুক্তি করেছে।

 

উপাচার্য মর্মাহত হয়েছেন তার ছেলেদের , তার ছাত্রদের কোন অপশক্তি বিপথগামী করছে দেখে। চলমান আন্দোলনে উপাচার্য নিজে বার বার ঘটনাস্থলে গিয়েছেন, খোজ নিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের মাথায় হাত বুলিয়ে, আদর করে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে ক্যাম্পাস বন্ধ রেখেছেন, শতশত লাঞ্চনার পরেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে শান্তিপ্রিয় মানুষের কাতারে ছিলেন।

 

তার নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা- কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ সাংবাদিকরা এগিয়ে এসেছেন করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রম। প্রক্টোরিয়াল বডিতে সঞ্জয় কুমার স্যার, আল জাবির স্যার, নজরুল স্যার, উজ্জ্বল স্যার, প্রণব স্যার কি করেন নি চলমান আন্দোলন কে বিপথে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষার্থে । আমি দেখেছি এক জন শিক্ষক সকালের নাস্তা এক কাপ চা খেয়ে সারাদিন ছাত্রদের পাশে ছিল, প্রশাসন কে সাহায্য করেছে। সহকারী প্রক্টর সঞ্জয়  কুমার স্যার প্রতিনিয়ত ছেলেদের অনুনয় বিনিনয় করে শান্ত করেছে, প্রশাসনের কথা গুলো শিক্ষার্থীদের সফল ভাবে বুজিয়েছে। আল জাবির স্যার , প্রণব স্যার সারা রাত থানায় রাত কাটিয়েছে মামলার কাজে, যার প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা, তারাও সারা রাত থানায় ছিল। পরিবহণ কর্মকর্তা মাসুদ রানা স্যার, কিছু বিপথগামীরা যখন আন্দোলনে বর্বরতা নিয়ে এসেছিলেন তিনি দুই হাত বাড়িয়ে নিজের বুক চিতিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেছেন, ধন্সাত্নক থেকে প্রতিহত করেছিলেন।ছাত্র প্রতিনিধিত্ব হিসেবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা,  শিক্ষক সমিতি সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক স্যার তাদের নেতৃত্ব সার্বিক যোগাযোগ ছিল প্রশংসনীয়, তারা আন্দোলন কে শান্তির পথে নিয়ে আসতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা রনি ভাই, আরিফ ভাই, লিমন ভাই, শান্ত ভাই যারা এক সময় ছাত্রনেতা ছিলেন তারা দায়িয়েছেন শিক্ষার্থীদের পাশে এগিয়ে এসেছেন সকল কালোছায়া অন্ধকার দূর করতে। বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও দায়িত্বরত সাংবাদিকদের মাঝে আমাদের ছেলেরা এই আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ অবধি ছিল, সব  সময় মনিটরিং করেছে। সাংবাদিক আজিজার ভাই, তুহিন, অংকুর, আরিফ সারারাত মামলার কাজে থানায় ছিল। সাংবাদিক উজ্জ্বল ভাইকে হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে আমি আর অংকুর আহত পর্যন্ত হয়েছি। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি দলের সাথে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি গিয়েছি। আমাদের সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি সজীব ভাই আন্দোলনের জন্য সকলকে সহযোগিতায় জন্য সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা এক ঘন্টা দিয়ে বের হয়ে গিয়েছেন শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়য়ের স্বার্থেই ।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যখন সংবাদ সন্মেলন করলেন সকল সাংবাদিকরা তা যখন বয়কট করল , সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকল তখন বিশ্ববিদ্যালয়য়ের সাংবাদিকরা সার্বিক ভাবে মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছে।

উপাচার্যের তদারকিতে বিশ্ববিদ্যালয়য়ের উপর মামলায় কেউ গ্রেফতার হবে না এটি শুধু আশ্বাস না বাস্তবেও তার প্রমাণ মিলছে। সন্ত্রাসীদের উপর বিশ্ববিদ্যালয়য়ের দায়ের করা মামলা দ্রুত বিচার টাইবুনালে যাচ্ছে, অপরাধীদের ধরতে পুলিশ প্রশাসন বার বার অপারেশন চালাচ্ছে।

 

পরিশেষে বলতে চাই একটা বিশেষ মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে, পরিবেশ অস্বাভাবিক করতে ইন্দন দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালো অবস্থানে রাখার শোভাকাঙ্খিদের কাছে তারা নেহাত চুনোপুটি, তাদের কোন যড়যন্ত্র কাজে আসবে না। কেউ আর এই ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে পারবে না। আর আপনারা কারা, কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপথগামী করছেন সব কিছুই উপাচার্য জানেন বুজেন তাই আর কাউকে ছাড় দিবেন না তিনি । এখনো সময় আছে ভালোবাসুন উপাচার্যকে ভালোবাসুন প্রানের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে … হয়তো আপনার একটুখানি ভালোবাসাই পারে সকল অপশক্তির কালো আধার থেকে বের হতে। ভালো থাকুক এই বন্ধন ভালো থাকুক কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রতিটা মানুষ।

 

 

মেহেদী জামান লিজন

সভাপতি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি

প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন