বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:২১ অপরাহ্ন

চিঠি দিয়ে যমুনায় গ্যাস বন্ধ করল তিতাস

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। ফলে কারখানাটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে।

গতকাল ৩১ জানুয়ারি বিকালে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর মসিউর রহমানের স্বাক্ষরিত এক চিঠি যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে আসে। সেখানে বলা হয়, চলতি সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতে গ্যাস সংকট মোকাবিলার জন্য যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেডে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বহাল রাখার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে তারাকান্দি ট্রাক মালিক সমিতি মিলনায়তনে তারাকান্দি সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আবদুল মোতালেব।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে কারখানা স্থাপনের সময় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থার গ্যাস সরবরাহ নিয়ে একটি চুক্তি সই হয়। সে অনুযায়ী কারখানায় ৩৭০ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ দেওয়ার কথা ছিল। অথচ ১২০ পিএসআই থেকে ২৩০ চাপে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। কারখানায় গ্যাসের চাপ ১২০ পিএসআইয়ে নেমে এলে সার উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

 

বক্তব্যে আরও বলা হয়, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ইরি-বোরো মৌসুম। এ সময় কৃষকের পর্যাপ্ত সার প্রয়োজন। বিদেশ থেকে আমদানি করা পচা গলা সার কৃষকের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। এ সারের কারণে জমির উর্বরতা শক্তি হারাবে। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় ইরি-বোরো মৌসুমে ১৯ জেলায় সার সংকটের আশঙ্কা দেখা দেবে। গত অর্থবছরে গ্যাসের চাপ না থাকায় কারখানায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থা (বিসিআইসি) যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেডকে (জেএফসিএল) ৩ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন। গতকাল ভোর পর্যন্ত কারখানায় ২ লাখ ৬২ হাজার ২৯৫ টন সার উৎপাদিত হয়েছে।

নাগরিক সমাজের নেতারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের দাবি জানান। অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন- সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম, সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন, যমুনা সারকারখানা শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান প্রমুখ।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তারাকান্দি মিটারিংঅ্যান্ড রেগুলেটিং স্টেশনের সেক্টর ইনচার্জ একরামুল হক বলেন, যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধে এমডি স্যারের স্বাক্ষরিত এক পত্র দেওয়া হয়েছে। এরপর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবা সুলতানা বলেন, বুধবার বিকালে তিতাস গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড থেকে এক চিঠি আসে। সেখানে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, আজ ভোর থেকে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন
শেয়ার করুন:





©সর্বস্বত্ব ২০১৬-২০২০ সংরক্ষিত