আজ ২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং; ৫ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; হেমন্তকাল

প্রতিবন্ধী আজহারুলের হামাগুড়ি দিয়ে এস এস সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বপন জয়ের পথে প্রতিবন্ধী আজহারুল। হামাগুড়ি দিয়ে এবার এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। জন্ম থেকেই পা দুটি উল্টো, বাঁকা, সরু, হাত দুটি বাঁকা। এর পরে ও দু’হাত দিয়ে ভর করে এ গিয়ে চলছে স্বপন জয়ের পথে আজহারুল ইসলাম। তার মনের মধ্যে রয়েছে শত ভাগ জোর।

এজন্য বাড়ি থেকে প্রতিদিন ৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কোনমতে হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসত  আজহারুল। সে এস.এস.সি পরীক্ষা হাতে লিখে দিবে বলে যুগান্তরকে জানান। আজহারুল ইসলামের বাড়ি মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বনতিয়শ্রী গ্রামে। বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। বাবা মনির উদ্দিনের ভিটা বাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। তার বাবা দিন মজুরী করে সংসার চালায়।

আজহারুল ইসলামের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৫ বছর ধরে দু’হাতে ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসত আজহারুল। যদি অটো,কিংবা রিকশায় দিয়ে আসতে হয় হা হলে প্রতিদিন খরচ হয় ৫০ টাকা। আজহারুলের দিন মজুরের বাবার পক্ষে এত টাকা পাবে কোথায় ? সে প্রাইমারি স্কুল সার্টিফেকেট (পিএসপি) পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২ দশমিক ৮৩ পেয়ে কৃতকার্য হয়।

জেএসসিতে পায় ২.৫৫। আজ বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে আজহারুল আসলে  জাহাঙ্গীরপুর টি আমিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে প্রবেশ করার সময় দরজার পাশে দেখা হয়  তার সাথে। এ সময় আজহারুল ইসলাম  যুগান্তরকে  বলে, লেখা পড়া শিখে আমি একজন সরকারি অফিসার হতে চাই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, আজহারুল একজন মেধাবী ছাত্র, আর্থিক সমস্যার কারনে ওকে প্রতিদিন হামাগুড়ি দিয়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তা আসতে হয়েছে। আমি চাই বিত্তমানরা যেন ওকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বাহার উদ্দিন বাবুল বলেন, আজহারুলের যাবতীয় বই,খাতাসহ সকল প্রকার উপকরণ বিদ্যালয় থেকে  দেয়া হয়। আমরা তার মাসিক বেতন নেইনা। এমনকি এবার পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে ও টাকা নেওয়া হয়নি। আমাদের বিশ্বাস আজহারুল এস.এস.সি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জন করবে।

প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন