আজ ২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং; ৫ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; হেমন্তকাল

এ যেন শিমের সমুদ্র!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

আজহারুল হক, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ):: গফরগাঁওয়ের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠগুলো যেন এখন শিমের সমুদ্র। সবুজের উপর লাল-সাদা ফুলের সমারোহ। শিমের রাজত্বে অন্য ফসলের খোঁজ মেলা ভার।

রাত গড়িয়ে বেলা বাড়লেই ক্ষেত থেকে শিম তুলে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যান কৃষকরা। শিম বিক্রি করেই বাড়ির জন্য সদাইপাতি নিয়ে ফিরে আসেন তারা। এটা এখানকার কৃষকদের জন্য নিত্যদিনের ঘটনা।

অন্যান্য ফসলের তুলনায় অধিক সুফল এবং দাম ভালো পাওয়া যায় বলে শিম আবাদ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন এখানকার কৃষকরা।

একর প্রতি খরচ বাদে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা লাভ তুলছেন একেকজন কৃষক। গত কয়েক বছরে শিম চাষে পাল্টে গেছে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা।

গফরগাঁওয়ের শিমের ইউনিয়ন বলে খ্যাত চরআলগী ও টাঙ্গাব। এছাড়াও দত্তের বাজার ও পাঁচবাগ ইউনিয়নেও শিম চাষ হয়ে থাকে। পুরো এলাকাজুড়ে শিমের বাগান। যেদিকে চোখ যাবে সেদিকেই শুধু শিম আর শিম। শীত মৌসুমের প্রিয় সবজি শিম। চরআলগী ইউনিয়নের চরমছলন্দ কাচারীপাড়া, চরআলগী নয়াপাড়া, টাঙ্গাব ইউনিয়নের বাখালী, বাশিয়া ও টাঙ্গাব গ্রামে, পাঁচবাগ ইউনিয়নের চরশাঁখচূড়া, খুরশিদ মহল, গাভীশিমুল গ্রামে এবং দত্তের বাজার ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপক আকারে বাণিজ্যিকভাবে শিমের আবাদ হয়েছে। বহু বছর আগে থেকে এই এলাকায় শিমের আবাদ হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের উপজেলার ব্যবসায়ীদের কাছে পৌছে যাচ্ছে এই অঞ্চলের রবি শস্যের মধ্যে অন্যতম শিম।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় মোট ১৫০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। চলতি বছর কৃষকরা এলাকায় দেশী, নলডুক এবং উন্নত জাতের শিম চাষ করেছেন। শিম চাষের সঙ্গে জড়িত অন্তত দুশতাধিক কৃষক। তারা জানিয়েছেন, শিম চাষ করাটা তাদের জন্য ব্যাপকভাবে লাভজনক।

চরমছলন্দ কাচারীপাড়া গ্রামের শিম চাষি জীবন মিয়া, সাইদুল ফরাজি, বাদল ফরাজি, জালাল মিয়া, মজিবর রছুমদ্দিন, চরআলগী নয়াপাড়া গ্রামের আফাজ উদ্দিন, টাঙ্গাব ইউনিয়নের বামনখালী গ্রামের লিয়াকত, আজিম উদ্দিন, মহসিন খান জানিয়েছেন, শীতকালের শুরুতেই এই এলাকার কৃষকরা উৎসব মুখরভাবে শিম চাষ করে থাকেন। শিম চাষ করে তারা বেশ লাভবান হন। এক একর জমিতে শিম চাষ করতে সব মিলিয়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। পুরো মৌসুমে কমপক্ষে এক একর জমি থেকে শিম বিক্রি হবে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা। এখানকার শিম গফরগাঁওয়ের পাইকারি বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে।

কাচারিপাড়া গ্রামের শিম চাষী জীবন মিয়া জানান, তিনি আধা একর জমিতে শিম চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। তিনি এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। বাজার দর ভাল থাকলে আরো আরো অন্তত ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন।

গফরগাঁও উপজেলা কৃষি অফিসার এস এস ফারহানা হোসেন বলেন, এই উপজেলার চরআলগী, টাঙ্গাব, দত্তের বাজার ও পাঁচবাগ ইউনিয়নের গ্রামগুলোর জমি সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। লাভজনক হওয়ায় এই এলাকার কৃষকরা এই মৌসুমে ব্যাপকভাবে শিম চাষ করে থাকেন। শিম ছাড়াও এখানে বেগুন, করলা, মিষ্টি কুমড়া, চিচিঙ্গা, লাউ, ঢেড়শ, লাল শাক, মুলার চাষ হয়। তবে এখানকার শিম সারাদেশে বিখ্যাত। তাছাড়া দাম ভালো পাওয়া যায় বলে শিম চাষ করে লাভবান হয়েছেন এখানকার কৃষকরা।

প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন