আজ ২৩শে জুন, ২০১৮ ইং; ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; বর্ষাকাল

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বনাম দূর্নীতি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রবীণদের থেকে শুনতাম, পূর্বের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র দায়িত্ব নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য শিক্ষকদেরকে অনুরোধ করতেন । অল্প শিক্ষিত অনেক মানুষ তাঁর জনপ্রিয়তা, পদাধিকার বলে অনেক বড় রাজনৈতিক নেতা হতে পারেন, সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহন করতে পারেন । কিন্তু একজন ভিসি হতে হলে তাঁকে উচ্চশিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্বগুণসহ তাঁর সিভি অনেক ভারি হতে হয় । তাই সব স্তরের মানুষ তাঁকে (ভিসিকে) শ্রদ্ধার চোখে দেখে ।

বর্তমানে অধ্যাপকগণ ভিসি হওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায় । অনেকেই অনেক ধরনের লবিং করে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায় ভিসি হওয়ার জন্য । ভিসিগণ নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথমেই যে কাজটি করেন, তা হলো নিজের মতো করে তাঁর কথায় উঠা – বসা করবে এমন মানুষকে সিণ্ডিকেট সদ্স্য পছন্দ করা । বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক , কর্মকর্তা ও দল ক্ষমতায় থাকা ছাত্রসংগঠনকে তিনি তাঁর হাতের নাগালে রাখেন । ভিসির দুর্দিনে তিনি তাদেরকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন । ভিসি মাঝে মাঝে অব্শ্য তাদের কিছু আবদারও মিটিয়ে থাকেন । আবার ভিসির অনুগতদের যদি স্বার্থ ক্ষুণ্য হয়, তাহলে তারা ভিসি হটাও আন্দোলনে নেমে পড়েন । তারপর নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, ঘুষ, টেণ্ডারবাজিসহ অসংখ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্থ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিগণ ।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিল দূর্নীতির অভিযোগের মামলায় এখন জেলে আছেন, ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. রফিকুল হক নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনায় ভিসি পদ হারান, , ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মোহীত উল আলমের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি বার লক্ষ টাকা আত্মৎসাধের মামলা দুদকে তদন্তাধিন রয়েছে এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার প্রফেসর এএমএম শামসুর রহমান এর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলমান রয়েছে । এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি । নারী কেলেঙ্কারী, কারাবাস, মামলা, দুদকে তদন্ত ইত্যাদি ঘটনা পেপার-পত্রিকার পাতা উল্টালেই অহরহ দেখা যায় । এসমস্ত কারণে অভিযুক্ত ভিসিদেরকে সাধারণ জনগণ তথা সকলেই অবজ্ঞার চোখে দেখে ।

শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ পাবলিক বিশ্বিদ্যালয়ে ত্রিশ – চল্লিশ বছর শিক্ষকতা করার পর অনেকেই ভিসি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন । যে অধ্যাপক তাঁর সারাটি জীবন শিক্ষার্থীদের ভাল মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়ে আসলো অথচ সেই অধ্যাপকের ভিসি হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে দূর্নীতি স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ অজস্র অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তাঁর স্বার্থকতা কোথায় ? অথচ আমরা তাঁদেরকে মানুষ গড়ার কারিগর বলতেছি । কোথায় আজ উচ্চ শিক্ষিত অধ্যাপকদের মানবতা, কোথায় আজ জাতি গড়ার মেরুদণ্ড ?

 

আজিজার রহমান
শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রিন্ট করুন
মন্তব্য করুন