আজ ১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং; ২রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; হেমন্তকাল

শাহাবুদ্দীন কলেজের এইচ.এস.সি ফলাফল বিপর্যয় ; কারণ ও প্রতিকার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
২০১৫ সালে এস.এস.সিতে আছিম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৮ জন জিপিএ ৫.০০ পেয়েছিল । এটিই আছিম কেন্দ্রে প্রথম পরীক্ষা। এদের অধিকাংশ শাহাবুদ্দীন কলেজে ভর্তি হয়েছে। আবার অন্যান্য বিদ্যালয় গুলো থেকেও এ+ ধারীরা শাহাবুদ্দীন কলেজে ভর্তি হয়েছিল। ফলে, মোট সংখ্যা ৭০++ ছিল, যা সহজেই অনুমেয়। এই শিক্ষার্থীরা ১ম বারের মত শাহাবুদ্দীন কলেজের অধীনে আছিম কেন্দ্রে এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিয়েছে ২০১৭ সালে। এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে গত ২৩ জুলাই। যা নিয়ে আজকের এই লেখা।
 
২০১৭ সালে শাহাবুদ্দীন কলেজের মোট শিক্ষার্থী ছিল ৬২৫ জন। কৃতকার্য করেছে ৫২১ জন এবং অকৃতকার্য ১০৪ জন। পাসের হার ৮৩.৬৩ এবং জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে ১৪ জন। সারা দেশের তুলনায় সংখ্যাটা সন্তোষ জনক হলেও বাঁধ সেধেছে জিপিএ ৫.০০ এর পূর্ববর্তী বছরের ফলাফল । কেননা, গতবছর ৩২ জন জিপিএ ৫.০০ পেলেও এবছর তার অর্ধেকও পায় নি।
অপরদিকে, জিপিএ ৫.০০ প্রত্যাশা করা হয় বিজ্ঞানের ছাত্রদের কাছ থেকে বেশী। এবছর বিজ্ঞানের পরীক্ষার্থী ছিল ১৭০ জন যা গতবছরের তুলনায় প্রায় ৬০ জন বেশী।
 
এত অধিক এ+ ধারী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েও এবং মোট শিক্ষার্থীর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েও এইচ.এস.সি তে জিপিএ ৫.০০ এর পরিমাণ আশানুরূপ না হওয়াটা আমাদেরকে বিস্মিত করেছে। স্বাভাবিকভাবে এজন্য বিভিন্ন কারণ হতে পারে।
প্রথমত, এস.এস.সিতে জিপিএ ৫.০০ পেয়েছিল বলে, শিক্ষার্থীরা এইচ.এস.সিতে আগের মত গুরুত্ব দিয়ে লেখাপড়া করেনি। ফলে ফলাফল খারাপ হয়।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশী হওয়ার কারণে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমন্ডলী সবার প্রতি সমান ভাবে যত্ম নিতে পারেন নি। এজন্য অনেকের ফলাফল খারাপ হতে পারে।
তৃতীয়ত এবং এটাই প্রধাণ কারণ যে, এবছর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে বোর্ড থেকে প্রদত্ত আনসার শিট থেকে। এর ফলে একটু ভুলের জন্যই শিক্ষার্থীরা নাম্বার পায় নি। এর প্রভাব শুধু, শাহাবুদ্দীন কলেজে নয় সারা দেশেই পড়েছে।
 
উদাহরণ স্বরূপ, সারাদেশে গতবছরের তুলনায় এবছর জিপিএ ৫.০০ এর সংখ্যা অনেক কমেছে। আবার শুধু ময়মনসিংহ জেলায় বিবেচনা করলে দেখবেন, সদর উপজেলার পর ফুলবাড়ীয়ার ফলাফলই সবচেয়ে বেশী। এখানেই জেলার ২ য় সর্বোচ্চ জিপিএ ৫.০০ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী রয়েছে। আর, ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ২য় সর্বাধিক জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে শাহাবুদ্দীন ডিগ্রী কলেজ।
 
উল্লেখ্য, শাহাবুদ্দীন কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের ৪ টি তত্ত্বীয় বিষয়ের জন্য ১ জন করে শিক্ষক। ১ জন শিক্ষকের বিপরীতে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী বর্তমানে অধ্যয়নরত। অপরদিকে, আইসিটিতে ১ জন শিক্ষক ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন, তা ভাবতেই অবাক লাগে।
বাংলা এবং ইংরেজি বিষয়ে ১ জন করে শিক্ষক থাকলেও কর্তৃপক্ষ খন্ডকালীন আরও ২ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন, যা প্রশংসার দাবী রাখে। কিন্তু ৬ শতাধিক ছাত্রের জন্য ২ জন শিক্ষক কি যথেষ্ট !
 
সর্বশেষে, কলেজের গভর্নিং বডি, সম্মানিত অধ্যক্ষ এবং শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ হচ্ছে, ফলাফল ধ্বসের কারণ শনাক্ত পূর্বক তা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। এবং খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে বর্তমান শিক্ষকদের উপর থেকে চাপ কমান। আর যারা, খারাপ ফলাফলের জন্য শিক্ষকদের দায়ী করছেন তাদেরকে বলছি, গতবছর ৩২ জন জিপিএ ৫.০০ এই শিক্ষকদের মাধ্যমেই পেয়েছে। অন্য কেউ পড়ায় নি।
 
লেখক : জিল্লুর রহমান রিয়াদ,
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, জাগ্রত আছিম গ্রন্থাগার।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রিন্ট করুন
মন্তব্য করুন