আজ ২৩শে জুন, ২০১৮ ইং; ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; বর্ষাকাল

পোলট্রির গ্রাম আঙ্গারগাড়া ও চাঁনপুর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নে দু’টি গ্রাম আঙ্গারগাড়া ও চাঁনপুর এখন পোলট্রির গ্রাম হিসাবে পরিচিত।

দু’টি গ্রামে বর্তমানে মুরগীর খামার অর্থাৎ ছোট বড় পোলট্রির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুরগীর কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত এই দু’টি গ্রাম। তবে সরকারি পর্যায়ে সঠিক প্রশিক্ষণ ও সঠিক নীতিমালা করলে যেমন পরিবেশ রক্ষা হবে আবার এই শিল্পের কোনো লোকসান হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আমাদের দেশে প্রাণীজ আমিষের অভাব খুবই প্রকট। আমিষের এ অভাব মেটাতে মুরগি পালনের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব বিশেষ জরুরি। খুব অল্প সময়ে অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে সাম্প্রতিক সময়ে মুরগি পালন একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় কৃষি শিল্প হিসাবে পরিণত হচ্ছে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সঠিক পরিকল্পনায় মুরগি খামার স্থাপনের মাধ্যমে মুরগী পালনকে লাভজনক করে তুলা সম্ভব।

বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট-বড় খামার করে আঙ্গারগাড়া ও চাঁনপুর গ্রামের শত শত যুবক আজ স্বাবলম্বী। তারা কেউ ব্যবসার পাশাপাশি কেউবা বিদেশ ফেরত আবার কেউ চাকরির জন্য ঘুরে শেষ পর্যন্ত মুরগীর খামার করে স্বচ্ছল হয়েছেন। তাদের পাশাপাশি খামারে কাজ করে কয়েক হাজার শ্রমিককের পরিবার এখন নিত্য দিনের অভাব থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে।

চাঁনপুর গ্রামের সৌদি আরব ফেরত আসমত আলী জানান, আমি বিদেশ হতে কিছু টাকা এনে কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। তারপর অনেক বুদ্ধি করে প্রথমে ৫০০শ’ মুরগী নিয়ে খামার করি। বর্তমানে আমার খামারে ৫ হাজার লেয়ার মুরগি আছে। আমি এই খামার করে এখন স্বাবলম্বী পাশাপাশি আমার খামারে কাজ করে অন্তত ১০টি পরিবারের স্বচ্ছলতা পেয়েছে। এটাই আমার অনেক বড় পাওনা।

তিনি আরো বলেন, আমি খামার করে সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা পাই নাই, পেলে আরো ভালো করতে পারতাম। মানহীন খাদ্যের কারণে খামারীরা এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতিদিনই মুরগির রোগবালাই লেগেই থাকছে।

আঙ্গারগাড়া গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, পোলট্রি করে এখন দু’বেলা পেট ভরে ভাত ও সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারছি।

ওই গ্রামের আলম মিয়া বলেন, আমি বিএ (অর্নাস) পাশ করে চাকরির জন্য অনেক দুয়ারে গুরছি। কিন্তু চাকরি না পেয়ে বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা পুঁজি এনে মুরগির খামার করি। তারপর আর আমাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নাই বর্তমানে আমি আরো ৫ যুবকের কর্মসংস্থান করেছি। পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছি। তবে অপরিকল্পপিত ভাবে  ফালানো এসব খামারের বিষ্ঠা বা লিটারের দুর্গন্ধে রোগ বালাইয়ের সংখ্যাও দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এলাকায় নাম না  করার শর্তে  অভিযোগ করে বলেন, বর্জের অব্যবস্থাপনার কারণে রোগবালাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মশা মাছি উপদ্রব বেশি হওয়ায় শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নানা অসুখে ভুগছে।

ভালুকা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ হেলাল উদ্দিন জানান, মুরগি খামারীদের আমাদের পক্ষ্য থেকে থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। গতমাসেও কেজিএফ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ডাকাতিয়ায় ২টি পোগ্রামে ১৫০জন খামারীকে প্রশিক্ষন দিয়েছি। তবে এটা পরিমাণের চেয়ে অনেক কম। আসলে আমরা প্রশিক্ষণের তেমন বাজেট পাই না। তাই সব সময় প্রশিক্ষণ করানো যায় না। তবে আমরা উঠান বৈঠক করে খামরীদের প্রাথমিক ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছি।

প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন