আজ ১৮ই আগস্ট, ২০১৮ ইং; ৩রা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; শরৎকাল

ময়মনসিংহ রাজনীতির নন্দিত মেয়র ইকরামুল হক টিটু

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে, সাহিত্য সংস্কৃতির উত্তরাধিকারিত্ব নিয়ে রাজনীতিতে নন্দিত হয়ে উঠেছেন ময়মনসিংহের মেয়র ইকরামুল হক টিটু। বয়সে তরুণ, পারিবারিকভাবেই বঙ্গবন্ধুর আর্দশ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি তার রক্তে। কিন্তু ময়মনসিংহ পৌর মেয়র হিসাবে তিনি নিজেকে দলের ঊর্ধ্বে রেখে সকল নাগরিক ও মানুষের জন্য দুয়ার খুলে রেখেছেন সারাক্ষণ। তার অমায়িক ব্যবহার, মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং যে কারো সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে সাড়া দেয়া সবার মাঝে আপন করে নিয়েছে।

আওয়ামী লীগের বাইরেও তার গ্রহণযোগ্যতা প্রবলস্থানীয় ময়সনসিংহ সদর আসনের মানুষেরা দাবি করেন তাকে সংসদে দেখতে। কিন্তু আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচনে লড়াইয়ের সবুজ সংকেত দিয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য রেখে বিনয়ী, ভদ্র ও সাহসী মেয়র ইকরামুল হক টিটু ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ময়মনসিংহ নগরীকে বদলে দিচ্ছেন। অন্যদিকে মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে নিরহংকারী আচরণে জয় করে হাঁটছেন মানুষের হৃদয়।

আধুনিক তিলোত্তমা নগরী হিসেবে ময়মনসিংহকে গড়তে চলছে পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন কাজ। বিউটিফিকেশনের আওতায় সংস্কৃতির নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপন করা হয়েছে ভাস্কর্য শিল্প। নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর মাধ্যমে ময়মনসিংহ পৌরসভা সড়ক দ্বীপগুলোকে সাজাচ্ছে নতুন রূপে।

অনুন্নয়নের অচলায়তন ভাঙা এ রূপকারের নাম ইকরামুল হক টিটু। ময়মনসিংহ পৌরসভার এ মেয়র  মোঃ ইকরামুল হক টিটু ব্রক্ষপুত্র নদের উপকন্ঠের এ নগরীকে আধুনিক চিন্তা-চেতনার মেলবন্ধন ঘটিয়ে দৃষ্টিনন্দন বিউটিফিকেশন ও পরিকল্পিত উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে ‘সুন্দর শহর’ এর আলোকে নিয়েছেন নতুন নতুন প্রয়াস।

তরুণ মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, ‘শিল্পকলার বিভিন্ন উপস্থাপনার মধ্যে দিয়ে ময়মনসিংহ নগরীকে আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেয়াই আমার ভিশন। এ ভিশন বাস্তবায়নে পৌরবাসীকে আমাকে আকুন্ঠ সমর্থন জুগিয়েছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন প্রয়াত অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম। কীর্তিমান এ রাজনীতিকের স্মরণে নগরীর টাউন হল মোড় এলাকায় প্রথম নির্মিত হয় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্কয়ার। এ স্কয়ার নির্মাণের মধ্যে দিয়ে বিউটিফিকেশনের যুগে প্রবেশ করে ময়মনসিংহ নগরী। মেয়র টিটু তখন ছিলেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র।

এরপর নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে পৌর পিতার পদে আসীন হয়ে মেয়র টিটু পাটগুদাম র‌্যালীর মোড়কে নামকরণ করেন ‘বিজয় ৭১’। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ মুক্ত দিবসে মুক্তিযোদ্ধা জনতার বিজয় র‌্যালির সূচনা হয়েছিল এ মোড় হয়েই। এখানেই মেয়র টিটু গড়েছেন অনুপম স্থাপত্য ভাস্কর্য। এখানে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে ৮ বীর শ্রেষ্ঠের ম্যুরাল। অপরূপ টেরাকাটায় এ নান্দনিকতা মুগ্ধ করেছে স্থানীয়দের।

এ ভাস্কর্যের দৌলতেই কথা বলে ইতিহাস। এর মাধ্যমেই মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবের বার্তা নতুন প্রজন্মে মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন এ পৌর পিতা।

ময়মনসিংহের প্রথম শহীদ মিনার স্থাপিত হয়েছিল ময়মনসিংহ পৌরসভা মোড়ে। কালের কপোলতলে এ ইতিকথা হারিয়ে যেতে বসেছিল। নান্দনিক রূপ দিয়ে তা ফিরিয়ে এনে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রথম শহীদ মিনার স্মারক। এর নামকরণ করা হয়েছে ‘স্মৃতি অম্লান’।

নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গাঙ্গিনারপাড় মোড়। এ মোড়ের নামকরণ করা হয়েছে ‘শাপলা স্কয়ার।’ গাঙ্গিনারপাড় মোড়ে প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী পানির ট্যাংকের নিচে নুড়ি পাথরের সামনে বসানো হয়েছে ঝিনুক। দু’পাশে দু’টি সাদা বক। তার সঙ্গেই রয়েছে এনসিসি ব্যাংকের সৌজন্যে এটিএম বুথ। নান্দনিকতার ছোঁয়ায় এ মোড়কেও বদলে দিয়েছেন মেয়র টিটু।

নগরীর নতুন বাজার এখন পায়রা চত্বর। এ মোড়ে বসানো হয়েছে শান্তির প্রতীক পায়রা চত্ত্বর ভাস্কর্য। নান্দনিকতার আদলে গড়া এ পায়রা চত্বরকে মেয়র টিটু উৎসর্গ করেছেন ময়মনসিংহের প্রয়াত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোতাহার হোসেন বাচ্চুকে।

জমিদারি আমলের স্থাপনা আর পরিকল্পনার মধ্যে ময়মনসিংহ নগরী এতোদিন আবাসিক শহর হিসেবেই জনপ্রিয় ছিল। এ নগরী দীর্ঘদিনের অনুন্নয়নই সমৃদ্ধির পথে বাঁধা দিয়েছে। দেশের আশেপাশের শহরগুলোর তুলনায় ময়মনসিংহ অনুন্নয়নে আবদ্ধ থেকেছে দিনের পর দিন। নেতৃত্বের দূরদর্শিতার কারণে উন্নয়ন এখানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারেনি।

এমন বাস্তবতায় ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মো.ইকরামুল হক টিটু নতুন শহর সুন্দর করে গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করেন।

সূত্র জানায়, বিদ্যমান সঙ্কট এবং সমস্যার বেড়াজাল থেকে নগরীকে পরিকল্পিত ও আধুনিক রূপ দিতে মেয়র টিটু হাতে গ্রহণ করেন নানামুখী উদ্যোগ।
পরিচ্ছন্ন সবুজ নগরী গড়তে মেয়র গুরুত্বারোপ করেন। অপরিচ্ছন্ন শহরের বদনাম থেকে শহরটিকে বের করে আনার উদ্যোগ ফলপ্রসু হয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এ নগরীকে দেশের মডেল নগরে পরিণত করেছেন। তার হাত ধরেই ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নেও মডেল এখন সংস্কৃতির এ নগরী।

পূর্ব পশ্চিমবিডিডটকমকে মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, একটি নগরী কতটুকু আধুনিক তার প্রকাশ পায় শৈল্পিক উপস্থাপনায়। এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ময়মনসিংহ নগরী আধুনিক মাত্রায় প্রবেশ করেছে।

ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে নগরীর পুরাতন ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শিক্ষার শেকড় এবং চরপাড়া মোড় এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ‘টাইম স্কয়ার।’ রাতের চরপাড়া মোড় এ টাইমস স্কয়ারের বর্ণিল আলোচ্ছটায় হয়ে উঠছে অপরূপা।

মেয়র টিটুর হাত ধরেই নতুন আদল পেয়েছে নগরীর সাবেক সাহেব কোয়ার্টার পার্ক এখন জয়নুল উদ্যান। আধুনিকতার মিশেলে বিপিন পার্কও আধুনিকায়ন সৌন্দর্য্য বর্ধনের দৃষ্টান্ত। দলীয় রাজনীতির পরিবারতন্ত্রের শেকল ভেঙে নবীন-প্রবীণ রাজনীতিকের সমন্বয় ঘটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এ রাজনীতিক। মেয়র টিটু’র উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে দলীয় ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠেছেন নতুন এক উন্মাদনার নাম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবারে নৃশংস হত্যাযজ্ঞের নিষ্ঠুরতম মাস পনের আগস্টে নগরীর প্রায় শতাধিক স্পটে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে দারিদ্র্যদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন টিটু।

দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্যে, বদলে যাওয়া ময়মনসিংহের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন পৌর সভার সফল মেয়র ইকরামুল হক টিটু। দলীয় রাজনীতিকে চাঙ্গা  ও সুসংগঠিত করতে নেতৃত্ব পরিবর্তন সময়ের দাবি। ফলশ্রুতিতে দলটির তৃণমূল ও মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের কান্ডারী মেয়র ইকরামুল হক টিটুকে ময়মনসিংহ সদর আসনে মনোনয়ন দেয়ার জোর দাবি তুলেছেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট।

প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন