বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:২১ অপরাহ্ন

মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করল দুলাল

তিন বছর আগে মা-বাবাকে কথা দিয়েছিলেন তাদের নিয়ে আকাশে উড়াবে। অবশেষে সেই কথা রাখলেন ছেলে সৌদিপ্রবাসী দেলোয়ার জাহান দুলাল (৩০)।

ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে বাবা কৃষক মো. ইলিয়াছ উদ্দিন, মা মাহমুদা আক্তার, নানা কারি মফিজ উদ্দিন, বোন তানিয়া আক্তার ও ভগ্নিপতি আহম্মদ আলীকে নিয়ে উড়ে এলেন ময়মনসিংহের নান্দাইলের শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ মাঠে।

এসময় কলেজ মাঠের চারদিকে অবস্থান করছিল একদল পুলিশ। আর হেলিকপ্টারের শব্দ শুনে আশপাশের গ্রামের মানুষজনও মাঠের চারপাশে ভিড় করে। অবশেষে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে কলেজ মাঠে। হেলিকপ্টার থেকে কৃষক মো. ইলিয়াছ উদ্দিনসহ তার পরিবারকে নামতে দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে গেছেন এলাকার সবাই। দেলোয়ার জাহান দুলাল উপজেলার পৌর সদরের চণ্ডীপাশা মহল্লার কৃষক মো. ইলিয়াছ উদ্দিনেরই ছেলে।

১৩ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদে থাকেন দুলাল। সর্বশেষ তিন বছর আগে দেশে এসেছিলেন তিনি। ওইবার বলেছিলেন, মা-বাবা, ভাইবোন ও নানা-নানিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে বাড়ি ফিরবেন আসবেন। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই এবার এই আয়োজন করেন দুলাল। এজন্য তার খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

দুলাল দেশে আসছে জেনে  ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন মা-বাবাসহ পরিবারের পাঁচজন। এরপর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে দেশে আসেন তিনি। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে হেলিকপ্টারে চড়েন পরিবারের পাঁচ সদস্য। সেখান থেকে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে গ্রামের বাড়ি নান্দাইলের পথে যাত্রা করে হেলিকপ্টারটি। ১২টা ৫০ মিনিটে পৌঁছায় নান্দাইল কলেজ মাঠে।

দুলাল বলেন, ছোট থাকতেই মা-বাবার ইচ্ছায় বিদেশ যাই। আল্লাহর রহমতে আমি আজ প্রতিষ্ঠিত। ইচ্ছা ছিল মা-বাবাকে আকাশে ওড়াব। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পেরেছি। এটা আমার জীবনে বড় পাওয়া।

দুলালের বাবা ইলিয়াছ উদ্দিন বলেন, হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়িতে আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। নানা কারি মফিজ উদ্দিন (৬৫) বলেন, ‘জীবনেও ভাবিনি হেলিকপ্টারে চড়তে পারবাম। অহনো স্বপ্ন স্বপ্ন মনে অয়।’

প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন
শেয়ার করুন:





©সর্বস্বত্ব ২০১৬-২০২০ সংরক্ষিত