আজ ২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং; ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; শরৎকাল

সাতপাকের পূর্বে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আনুসাঙ্গিক কার্যাদি সম্পন্নের পর সাতপাকের পাক্কালে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করলেন নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুতাসিমুল ইসলাম এবং ওসি মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

পরে বাল্যবিয়ে করাতে আসা পুরোহিত অজিত চন্দ্র দেবনাথকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেন ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের মোজাফরপুর কামার বাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানাগেছে, কামার বাড়ী গ্রামের ব্রজেন্দ্র দেবনাথের কন্যা আয়শা হামিদা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী (১৩ বছর ৩ মাস ২৫দিন বয়স) সুবর্ণা দেবনাথের বিয়ে ঠিক হয় কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার স্কুলহাটি গ্রামের সুধাংশু দেবনাথের পুত্র সজিব চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে। তারিখ ছিল ৩০ জুন(শুক্রবার)। সে অনুযায়ী বিয়ের কার্যক্রম শুরু হলে উপজেলা হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার প্রহল্লাদ চন্দ্র মজুমদার বাল্যবিয়ে না দেয়ার জন্য মেয়েপক্ষকে অনুরোধ করেন। কিন্তু তা কর্নপাত না করে বিয়ের আয়োজন করা হয়।

খবর পেয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন এবং প্রাপ্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবে না বলে মুসলেখা দিয়ে বর ও কনেপক্ষ ছাড়া পান। পরে ভ্রাম্যমান আদাতের মাধ্যমে পুরোহিতকে ১৫ দিনের কারাবাস দেয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুতাসিমুল ইসলাম জানান, বাল্যবিয়ের পৌরহিত্য করতে আসা গৌরিপুর উপজেলার ময়লাকান্দা ইউনিয়নের নামাপাড়া গ্রামের মৃত সুরেন্দ্র দেবনাথের পুত্র অজিত চন্দ্র দেবনাথকে ১৫ দিনের সাজা দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের চিটুয়া নওপাড়া গ্রামের রফিক মিয়ার কন্যা মজলিশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী তানজিনা আক্তারের বিয়ের দিন ছিল বৃহস্পতিবার (২৯জুন) একই গ্রামের শহর আলীর পুত্র বিদ্যুৎ মিয়ার সাথে।

খবর পেয়ে উপজেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কল্যাণী হাসান পুলিশের সহায়তায় তানজিনার বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে সক্ষম হন।

প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন