আজ ২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং; ৫ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; হেমন্তকাল

ময়মনসিংহে চরম খাদ্য সংকটে ভুগছে বানর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মধুপুরের বিশাল এলাকা জুড়ে বনাঞ্চল ঘেঁষে গড়ে ওঠা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সন্তোষপুর বনাঞ্চল। এখানে বৃহৎ এলাকা জুড়ে রয়েছে বড় ধরনরে একটি রাবার বাগান। আর এই পুরো বনাঞ্চল জুড়ে ১৯৩৮ সাল থেকে বসবাস করছে প্রায় তিন শতাধিক বানরসহ অন্যন প্রানী। জানা গেছে, তাদের মধ্যে এখন চরম খাদ্যসংকটে ভুগছে এই বানর গুলো।

বানরগুলোর খাবারের জন্য প্রতি মাসে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই বনের এক কর্মকর্তা। মঙ্গলবার ( ৬ জুন ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দুর দুরান্ত থেকে বানর দেখতে এক সময় শতশত দর্শনার্থীরা এই বনে বানর দেখতে প্রচুর ভির জমাতেন। তারা তখন বানরের জন্য বিভিন্ন খাবারও নিয়ে আসতেন। কিন্তু শৈসব এখন আর নেই। কালের বিভর্তে অনেক দর্শনার্থীই কমে দু-একজনে এসে দাড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এখন আর আগের মত বেশি লোকের সমাগম দেখা যায় না। দিনে দু-একজন দর্শনার্থীর ছুড়ে দেওয়া সামান্য বুট, মুড়ি জোটে ওদের ভাগ্যে। বনে নেই কোনো ফলদ গাছ। যেদিন কোনো দর্শনার্থী না আসেন, শুধু গজারি গাছের পাতা খেয়ে অনাহারি বানরগুলোকে জীবন বাঁচাতে হয়। এদিকে সন্তোষপুরের বন বিট কর্মকর্তা আরজু মিয়া জানান, প্রতিদিন সকালের ঘুম থেকে উঠে দেখি ১৯৩৮ সালে ব্রিটিশদের গড়া এই জরাজীর্ণ ভবনে মরচে পড়া টিনের চালে ক্ষুধার্ত বানরগুলোর চেঁচামেচি করতে থাকে।

 

পরে তাদের চেঁচামেচিতে নিজেদের সকালের খাবারের জন্য রাখা চিড়া, মুড়ি, রুটি কিংবা চাল এবং কল থেকে পানি তুলে দিয়ে তবেই ওদের শান্ত করতে হয়। কি করব, মন তো আর মানে না, ওদেরও তো জীবন ভাই। তিনি আরও বলেন, একটি বানর ৩ থেকে ৪ দিনের নবজাতককে পিঠে করে নিয়ে ঘুরে ঘুরে যখন বনে খাবার পায় না, তখন মা বানরগুলো ক্ষুধার যন্ত্রণায় আমাদের কাছে আসে। বানরগুলোর কষ্ট সইতে না পেরে আমাদের খাদ্যগুলোই ওদের জীবন বাঁচাতে দিই। এভাবেই অনেকটা আক্ষেপ করে আরজু মিয়া কথা গুলো বলেন । এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোবিন্দ রায় বলেন, সন্তোষপুর বনের বানরগুলোর কথা বিবেচনা করে সম্প্রতি বন বিভাগ বছরে ২০ হাজার টাকা করে দিচ্ছে, যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও আমাদের আছে। এ ছাড়াও সন্তোষপুরে দর্শনার্থীসহ বানরগুলোর আবাসস্থলের কথা চিন্তা করে বন বিভাগ একটি ইকোপার্ক তৈরির কার্যক্রম হাতে নেবে শিগগিরই।

প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন