আজ ২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং; ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; শরৎকাল

ক্ষমার মাস মাহে রমজান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

326X235_romjan4

রমজানুল মোবারক যখন উপস্থিত হয়, তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর বিশেষ বান্দাকে বিশেষভাবে ক্ষমা করে দেন। এ মাস যখন আগমন করে, তখন মানুষ তারাবি নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে আগমন করেন। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ইমামের সুমধুর কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত শ্রবণ করে পবিত্র তারাবি নামাজ আদায় করে। কেউবা গভীর রাতে মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের আশায় তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে কেউ ঈমান ও সওয়াবের আশা নিয়ে রমজানের রাতগুলোয় কিয়াম (তারাবি অথবা তাহাজ্জুদ) আদায় করবে, মহান আল্লাহ তায়ালা তার পূর্ববর্তী গোনাহগুলো ক্ষমা করে দেবেন।’ (বোখারি ও মুসলিম)।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘মাহে রমজান হলো গোনাহ ক্ষমা করার মাস। যে ব্যক্তি রমজান মাসে উপনীত হওয়ার পরও তার গোনাহগুলো ক্ষমা করতে পারল না, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক। তাই রমজান মাস এলে ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে নিজেকে বন্দি রাখতে হবে, যেহেতু মাহে রমজান হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস। তিরমিজির বর্ণনায় রয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালার রয়েছে জাহান্নাম থেকে কিছু মুক্ত দাস, যাদের তিনি প্রতি রাতেই জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রদান করে থাকেন।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)।
মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকেন। ক্ষমা পাওয়ার জন্য খাঁটি মনে জীবনের যত গোনাহ রয়েছে, তার জন্য অনুতপ্ত হওয়া। গোনাহের জন্য যদি আমি মনে মনে অনুতপ্ত না হয়ে শুধু মুখে মুখে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তাহলে খাঁটি তওবা হবে না। তওবা করতে হবে আন্তরিকভাবে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো উত্তম তওবা।’ (সূরা তাহরিম : ৮)।
আল্লাহর কাছে ক্ষমা পেতে হলে অন্য মানুষকে ক্ষমা করে দিতে হবে। যে মানুষকে ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ তায়ালাও তাকে ক্ষমা করে দেন। নিজের কৃতকর্মের জন্য মহান আল্লাহর কাছে কাকুতি-মিনতি করে তওবা এবং দোয়া করতে হবে। তওবার মাধ্যমে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা সবাই আল্লাহর সমীপে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পার।’ (সূরা নূর : ৩১)।
সুতরাং মাগফিরাতের দশকের মধ্যে মহান আল্লাহর কাছে তওবা, ইস্তিগফার ও দোয়ার মাধ্যমে জীবনের সব গোনাহের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। যারা মহান আল্লাহর কাছে গোনাহের জন্য ক্ষমা চাইবে, তাদের গোনাহগুলোকে আল্লাহ নেকি দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ তাদের (তওবাকারীদের) গোনাহকে পূর্ণ দ্বারা পরিবর্তিত করে দেন।’ (সূরা ফুরকান : ৭০)।
পবিত্র রমজানের প্রথম রহমত দশক অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় দশক হচ্ছে মাগফিরাতের। রাসুল (সা.) বলেন, ‘পবিত্র রমজানের প্রথমাংশকে রহমত, দ্বিতীয়াংশকে মাগফিরাত এবং তৃতীয়াংশকে দোজখ থেকে মুক্তি বলে ঘোষণা করা হয়েছে।’ (বায়হাকি)।
সুতরাং আল্লাহর কাছে আমাদের সবার ক্ষমা চাইতে হবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি মহান আল্লাহর বান্দা-বান্দিদের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। আমরা তাঁর বান্দা-বান্দিদের সঙ্গে যেমন আচরণ করব, আল্লাহ তায়ালাও আমাদের সঙ্গে তেমন আচরণ করবেন। আমরা আল্লাহর বান্দা-বান্দিদের কষ্ট থেকে মুক্তি দেব, আল্লাহ তায়ালা আমাদের কষ্ট থেকে মুক্তি দেবেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা যদি দুনিয়াবাসীর প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানবাসী আল্লাহপাকও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (আবু দাউদ)।
মোঃ আবু তালহা তারীফ

প্রিন্ট করুন
মন্তব্য করুন