আজ ১৫ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং; ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; শরৎকাল

ঝিনাইগাতীতে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ovijug1-768x1365শেরপুরেরর ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুবক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চরম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষকবৃন্দের পক্ষে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ১৬ জন শিক্ষক এসব অভিযোগ করেছেন। তারা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবরে লিখিত আকারে অভিযোগগুলো দাখিল করেছেন। ওই অভিযোগ পত্রে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হাসানুল হক এমপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.আবুবক্কর সিদ্দিক গত ২০১৪ সালে যোগদান করেন। সেই থেকে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকালে সেচ্ছাচারিতা, ঘুষ, দুর্নীতি ও অশালীন আচরণ করে যাচ্ছেন। তিনি প্রতিটি বিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধন ও ছাত্রছাত্রীদের পাঠের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের জন্য প্রতিবছর স্লিপের কাজের বরাদ্দ দেয়া চল্লিশ হাজার টাকায় ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ফাইল পাস করেন। উপজেলায় নব জাতীয় করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিকট উচ্চতর শিক্ষার জাল সার্টিফিকেট সরবারাহ করতে ১০ জন শিক্ষকের নিকট ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। ২০১৫/১৬ অর্থ বছরে অত্র উপজেলায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর উপকরণ ক্রয় বাবদ ৯৮টি বিদ্যালয়ের ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার বরাদ্দ হয়। উক্ত বরাদ্দের সমুদয় টাকা উত্তোলন করে ৫৮ টি বিদ্যালয়ের টাকা বিতরণ করে বাকি ৪০ টি বিদ্যালয়ের ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের পরিদর্শনকালে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এ ছাড়া বর্তমানের ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত বিদ্যালয় গুলো মূল বিদ্যালয় থেকে ২ কিঃমি দূরত্বে স্থাপনের নীতিমালা থাকা সত্যেও তা তোয়াক্কা না করে ১কিঃমি দুরত্বে বিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতি দিতে প্রত্যেক শিকক্ষকের নিকট ১ লাখ টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করেন। যার ফলশ্রুতিতে তিনি (শিক্ষা কর্মকর্তা) দুই বছরের মধ্যে কোটিপতি হয়ে ৫ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান জানান, অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য। সঠিক তর্দন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এ উপজেলায় কর্মরত ৮/১০ জন স্বার্থণে¦ষী, স্কুলবিমুখী শিক্ষককে স্কুলমুখী করায় ওনাদের স্কুলে যেতে হচ্ছে, অফিসে তাদের দালালি বন্ধ হওয়ায় এবং তাদের নেতৃত্বে আঘাত লাগায় আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে ষড়যন্ত্র করছেন তারা।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এজেডএম শরীফ হোসেন বলেন, তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। লিখিত আকারে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তর্দন্ত করা হবে।

প্রিন্ট করুন
মন্তব্য করুন