আজ ২৩শে জুন, ২০১৮ ইং; ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; বর্ষাকাল

রমজান : রহমতের মাস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Ramadan-Rahmat-1এই মাস অন্য সব মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। রমজান হল সেই মাস যে মাসে আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা শয়তানকে শিকল দিয়ে অবরুদ্ধ করেন। মুমিনদের ভাল কাজের প্রতিদান বাড়িয়ে দেন এবং মুমিনদের ক্ষমা করে থাকেন।

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : প্রত্যেক আদম সন্তানের ভাল কাজের প্রতিদান দশ থেকে সাতশ’ গুণ বেশি পাবে, কিন্তু সিয়াম (রোজা) ছাড়া। কারণ রোজা আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহ এর প্রতিদান দিবেন। (মুসলিম – ২৭০৭, আন নাসা’ই, আদ দারিমি, বায়হাকি)

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : যখন রমজান শুরু হয় তখন জান্নাতের দরজা খুলে যায়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। (আল বুখারি (১৮৯৯), মুসলিম, আন নাসা’ই, আহমাদ, ইবন হাব্বান, আদ দারিমি)।

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : যে রমজানে ঈমান এবং ইহতিসাব (আল্লাহের কাছ থেকে পুরস্কারের আশা করা) এর সাথে সিয়াম পালন করবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (আল বুখারি (৩৮), নাসাই, ইবন মাজাহ, আহমাদ, ইবন হাব্বান)।

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : ৫ ওয়াক্ত নামাজ, এবং এক জুমূ’আহ থেকে অন্য জুমূ’আহ, এক রমজান থেকে অন্য রমজান তাদের মধ্যবর্তী সকল কিছুকে ক্ষমা করে দেয়, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়। (মুসলিম (৫৫২), আহমাদ এবং আল বুখারি হতে বর্ণিত)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তার বান্দাদেরকে রমজান মাস দিয়ে সম্মানিত করেছেন, যারা প্রকৃত অর্থে সিয়াম পালন করেন। তিনি সায়েম (রোজাদার) দের জন্য জান্নাতে রাইয়ান নামক দরজা রেখেছেন এবং কিয়ামাতের দিন সায়েম (রোজাদার) দের সাথে সাক্ষাৎ করার সুসংবাদ দিয়েছেন।

সাহল ইবন সাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে, এদের একটির নাম আর রাইয়ান, যার মধ্য দিয়ে সায়েম (রোজাদার) ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (আল বুখারি (৪৭৯), মুসলিম)।

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : যার হাতে আমার সত্ত্বা তার কসম, সায়েম (রোজাদার) এর মুখের গন্ধ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার কাছে মেস্ক-আম্বার (অত্যন্ত মনোরম একটি সুগন্ধি) থেকেও উত্তম, এবং সায়েম এর খুশি দুটি, প্রথম খুশি হল যখন সে ইফতার করে, এবং যখন সে তার রব এর সাথে সাক্ষাত করবেন। (আল বুখারি (১৯০৪, নাসাই, ইবন মাজাহ, আহমাদ)।

সিয়াম বা রোজা মুমিনদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নিকট সুপারিশ করবেন।

জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন : ‘সিয়াম (রোজা) হল জুন্নাহ (ঢাল), যার দ্বারা বান্দা নিজেকে নার (জাহান্নামের আগুন) থেকে রক্ষা করে এবং সিয়াম (রোজা) আমার জন্য – আমিই এর প্রতিদান দিই।’ (আহমাদ (১৪৭২৪) হতে বর্ণিত এবং এর সনদ (ধারা) জায়্যিদ (ভাল), এটি বায়হাকিতেও বর্ণিত)।

রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : কিয়ামাতের দিন সিয়াম বলবে – হে প্রভু আমি তাকে দিনের বেলায় খাওয়া এবং প্রবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত রেখেছি, তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি, তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদের বলবেন- তোমাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হল। (আল হাকিম, আবু নুয়া’ইম, হাসান)।

ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : রমজান মাসে উমরাহ্‌ পালন করা হাজ্জ করার সমান। (ইবন মাজাহ – ২৯৯৪, নাসা’ই, আহমাদ)।

এ সকল (এবং আরও অন্যান্য হাদীস) থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে রমজান মাস পুরোটাই হল রাহমাহ (রহমত) এবং বারাকাহ (বরকত) দ্বারা পরিপূর্ণ। এই মাস গণনা করতে হবে সেকেন্ডে, দিনে নয়, কারণ প্রত্যেকটা সেকেন্ড খুবই মূল্যবান।

– See more at: http://bangla.thereport24.com/article/158737/#sthash.y1UdDqwl.dpuf

প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন