আজ ২২শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং; ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; হেমন্তকাল

প্রসঙ্গ : হঠাৎ ওয়ালটন নিয়ে প্রোপাগান্ডা কেন এবং কার স্বার্থে?

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

zahid-walton news-14.07.14_30763

দেশকে যারা হৃদয়ে ধারণ করেন, ভালোবাসেন, তাদের কাছে এই লেখাটি পড়ার অনুরোধ রইলোঃ

প্রথমতঃ কিছু কিছু মানুষের “বাংলাদেশ” নামে নাক সিঁটকানোর স্বভাব দীর্ঘদিনের! এরাই অপার সৌন্দর্যের লীলা ভূমি প্রকৃতি কন্যা বাংলা ফেলে, নতুন বৌকে বগলদাবা করে ছুটে যান পাতায়ায়! অথচ পাহাড় ঘেঁষা, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বালুকাময় সমুদ্র সৈকতের অবস্থান রয়েছে আমাদের দেশেই। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কি:মি:। যেখান থেকে দেখা যায় সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মতো অপরূপ দৃশ্য! সন্নিকটেই রয়েছে নারকেল জিঞ্জিরা খ্যাত একমাত্র রূপবতী প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনও! কিন্তু সেখানে যাওয়া যাবে না! কারণ, এটি তো বাং-লা-দে-শে ম্যান!!!

পোশাক শিল্পের কথা নাই বা বললাম। তবুও এমন হাজারটা উদাহরণ দেয়া যাবে এক নিমিষেই !

দ্বিতীয়তঃ মানুষ হিসাবে আমাদের অনেকের ন্যাচারালি আরেকটা ব্যাপার ঘটে যায়! আমরা কাছের মানুষের “শোক” যেমন সহ্য করতে পারিনা; “সুখ” -টাও পারিনা!!!

এবার প্রসঙ্গে আসি, গত কয়েকদিন যাবৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ওয়ালটন ব্র্যান্ড নিয়ে একটি অনলাইন পোর্টালে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। প্রোপাগান্ডাটির প্রচার বাড়াতেই ব্যবহার করা হচ্ছে জনসম্পৃক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককেও! একদল এটি করছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে, নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে; উপরে বর্ণিত স্বভাবের অন্য কিছু লোক এটি প্রচারে সহায়তা করছে মূলতঃ নষ্ট মানসিকতার প্রভাবে!!! উল্লেখ্য যে, প্রায় সিংহভাগ মানুষই এই অসত্য প্রচারের সোচ্চার প্রতিবাদও জানাচ্ছেন!

কিছুদিন পূর্বেও আমাদের দেশের শতভাগ ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যই ছিল আমদানি নির্ভর। আমাদের দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন সেখানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। শেখ হাসিনার যুগান্তকারী নেতৃত্বে এখন দেশের প্রতিটি মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। বেড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতির সমৃদ্ধি। সঙ্গত কারণেই বেড়েছে ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের বাজার চাহিদা। গুণগত মান, বাহারি ডিজাইন, দাম, সার্ভিস এবং প্রাপ্তির সহজলভ্যতার সমন্বয়ে সেই বিশাল বাজারের প্রায় ৭০% এখন ওয়ালটনের দখলে! বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আউটলেটের পাশাপাশি ওয়ালটন শোরুম গুলিতে মানুষের উপস্থিতির পার্থক্যই, আপনাকে উত্তর মেলাবে অনেক প্রশ্নের! একসাথে এতগুলি মানুষ কখনো ভুল করতে পারেন না ! মূল সমস্যাটা কি তবে এখানেই?

বিশ্বের ১৫ তম কম্প্রেসর প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন এখন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বস্ত্র খাতের মতোই হানা দিচ্ছে বিশ্ব বাজারে। আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিক্স মার্কেটে দাপটের সঙ্গেই ব্র্যান্ডিং করছে- “মেইড ইন বাংলাদেশ” এর ! এতকাল বিশ্ব বাজারে রামরাজত্ত্ব করা নামি দামি ব্র্যান্ড গুলিতে ভীতি বাড়ছে ! তারা ভীত ওয়ালটনকে নিয়ে। ভীত “মেইড ইন বাংলাদেশ” ব্র্যান্ড নিয়ে। সমস্যাটা কি তবে এখানে?

ওয়ালটন দেশের অসংখ্য শিক্ষিত বেকার যুবককে স্বাবলম্বী হতে শেখাচ্ছে। উদ্যোক্তা হতে প্ররোচিত, প্রভাবিত করছে। দেশের বেকার সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। আজ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে দেশের প্রায় দুই লক্ষ মানুষ ওয়ালটন দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করছেন। দুই লক্ষ কর্মজীবী মানুষ মানে দুই লক্ষ পরিবারের কর্ণধার ! মানে প্রকারান্তরে আমাদের দেশের দুই লক্ষ পরিবার ওয়ালটনের উপর এখন নির্ভরশীল ! হুজুগি মিথ্যা প্রচার আর প্রোপাগান্ডায় এই প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হলে, এর প্রভাব প্রকৃত অর্থে কার উপর এসে পরবে; একবার ভেবে দেখেছেন কি ?

প্রোপাগান্ডার অংশ হিসাবে দুয়েকজন ভুক্তভোগীর নাম উল্লেখ করে ইনিয়ে বিনিয়ে মূলতঃ বলার চেষ্টা করা হয়েছে, ওয়ালটন পণ্য নষ্ট হওয়ার হার বেশি! আরে ভাই, যেখানে দেশের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ৭০%ই সরবরাহ করছে ওয়ালটন! সেখানে হার একটু বেশি হওয়াটা কি অসম্ভব কিছু ? তাছাড়া অন্য বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে ওয়ালটনের পণ্য নষ্ট হওয়ার প্রকৃত তুলনামূলক চিত্রটাই বা প্রকাশ করলেন না কেন ? এটাও আপনাকে মনে রাখতে হবে, একই সাইজের বিদেশী নামি কোম্পানির একটি রেফ্রিজারেটর যেখানে আপনি কিনছেন প্রায় এক লক্ষ টাকায়; সেখানে ওয়ালটন বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন, মাত্র বিশ হাজার টাকা দিয়ে! এই তুলনাটাও একটু মাথায় রাখুন!

এত কিছুর পরও তবে কেন এই প্রোপাগান্ডা ?কোনো প্রকার ডায়াগনোসিস ছাড়াই আমার সাদা চোখের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে প্রধানত দুটি কারণ:

১. আহমেদ রাজু নামের যে সম্পাদকের পোর্টালে ওয়ালটন নিয়ে এই নেগেটিভ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেই মহান ব্যক্তিটিকে ওয়ালটন মালিকের মালিকানাধীন নিউজ পোর্টাল থেকে কোন এক কারণে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছিল ! তারই নষ্ট মানসিকতা আর প্রতিহংসার বহিঃপ্রকাশ এই প্রোপাগান্ডা! কিছু না বুঝেই যাকে প্রচারণায় সহযোগিতা করছেন, প্রথমে বর্ণিত মানসিকতার কিছু মানুষ !

২. দেশি বিদেশী যে চক্রটি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন! “মেইড ইন বাংলাদেশ” শ্লোগানকে ভয় পাচ্ছেন! সাময়িক লাভে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স বাজার আবারো বিদেশী প্রভুদের হাতে তুলে দিতে চাইছেন! তাদের সম্মিলিত, সমন্বিত চক্রান্তের অংশ এই প্রোপাগান্ডা !

পরিশেষে শুধু বলবো- সভা, সেমিনার, বক্তব্যে শুধু দেশ প্রেমের ফুলঝুরি ফুটালেই হয় না ! দেশ প্রেমিক প্রমানের জন্য আরেকটি মুক্তিযুদ্ধেরও প্রয়োজন নেই! নিজের পণ্য, নিজের গ্রাম, নিজের দেশকে ভালোবাসতে শিখুন ! চড়ুই পাখির অট্টালিকায় নয়; বাবুই পাখি হয়ে বাঁচার মানসিকতা গড়ুন ! তবেই কেবল আমরা পেতে পারি একটি সোনার দেশ, বাংলাদেশ !

ওয়ালটন আমাদের পণ্য। আসুন আমরা সবাই মিলে ওয়ালটনের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অপপ্রচারের, চক্রান্তের নিন্দা জানাই। প্রতিবাদে সোচ্চার হই। সমস্বরে শ্লোগান ধরি- “স্বদেশী পণ্য, কিনে হও ধন্য।”

–লেখক: মাহবুবুল আলম জামেল

প্রিন্ট করুন
মন্তব্য করুন