আজ ২৪শে জুন, ২০১৮ ইং; ১০ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; বর্ষাকাল

ফুলবাড়ীয়ায় মাদ্রাসা সুপারের ভুলে ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষা দিলো ৪৪ দাখিল পরীক্ষার্থী, অফিসে তালা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) অফিস : ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আন্ধারিয়াপাড়া বিডিএস দাখিল মাদ্রাসা’র দাখিল পরিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপে ভুল করায় অন্য বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছে ৪৪ পরীক্ষার্থী। এ নিয়ে মাদ্রাসাটির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার বিক্ষুব্ধরা প্রতিষ্ঠানটির অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার আন্ধ্যারিয়াপাড়া বিডিএস দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় ৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। ফরম ফিলাপের সময় মাদ্রাসার সুপার ভুল করে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের কোড ভুল করে শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের কোড বসিয়ে দেয়! ২ বছর ধরে ঐ ৪৪ দাখিল পরিক্ষার্থী বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের উপর প্রস্তুতি নিয়ে ছিল। কিন্তু, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষা দেয়ার সময় বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় -এর বদলে শারীরিক শিক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়া হলে শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

এই নিয়ে অভিভাকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। শনিবার মাদ্রাসা খোলার পর পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। এসময় তারা অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে পরীক্ষার্থী দুলেনা আক্তারের পিতা দুলাল মিয়া জানান, তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি অতি কষ্টে ৩ সন্তানকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। তার মেয়ে পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করেছে। লিমা আকতারের পিতা গোলাম মোস্তফা জানান, ঐ ৪৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে তার মেয়ের ক্লাস রোল ছিল ৩। তার জিপিএ-৫.০০ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পরীক্ষার দিন সে পরীক্ষার হল থেকে কেঁদে বের হয়ে এসেছে। মাদ্রাসা সুপারের দায়িত্বে অবহেলার নানা বিষয় নিয়েও কথা বলেন তিনি। পরীক্ষার্থী শারমিন আক্তার ও নয়ন মিয়া জানায়, তারা ২ বছর ধরেই “বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়” বিষয়ের উপর প্রস্ততি নিয়েছে। এ নিয়ে মাদ্রাসায় তারা ক্লাসও করেছে। শারীরিক শিক্ষার উপর তারা কোন ক্লাস করে নি, কোন প্রস্তুতিও ছিল না। মাদ্রাসা সুপারের ভুলের কারণে তারা আশানুরুপ ভাল করতে পারেনি। তাদের এ খারাপ ফলাফলের জন্য দায়ী মাদ্রাসা সুপারের বিচার দাবী করে তারা।

মাদ্রাসা সুপার মোঃ হাসমত উল্লাহ শেখ জানান, বিষয়ের কোড নম্বর পরিবর্তনের জন্য ৪৪ পরীক্ষার্থীর বিষয় পরিবর্তন হয়েছে। এ জন্য প্রথমে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে দায়ী করার চেষ্টা করলেও পরে তিনি নিজেই এ ভুলটি করেছেন বলে স্বীকার করেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন আকতার জানান, তিনি বিষয়টি জানেন না। তাঁর দায়িত্ব অন্য ভেন্যুতে।

প্রিন্ট করুন
মন্তব্য করুন