আজ ২৬শে মে, ২০১৮ ইং; ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; গ্রীষ্মকাল

বিশ্বসভায় ময়মনসিংহের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন জাদুসম্রাট পি. সি. সরকার

  • 152
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    152
    Shares
হাওড়-বাওড় আর মইষের শিং -এই নিয়ে ময়মনসিংহ। প্রিয় পাঠক, হাজার বছরের ইতিহাসে ময়মনসিংহের যেসব কৃতি সন্তান তাঁদের মেধা-মননশীলতা ও কর্মের মাধ্যমে এই মাটিকে গৌরবান্বিত করেছেন, একবিংশ শতকের নতুন প্রজন্মের কাছে সেইসব মনীষীর বর্ণাঢ্য জীবন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগভিত্তিক প্রথম ও পাঠকনন্দিত অনলাইন পত্রিকা “ময়মনসিংহ ডিভিশন ২৪”। সেই ধারাবাহিকতার অষ্টম পর্বে থাকছে ময়মনসিংহের কৃতি সন্তান জাদুসম্রাট পি. সি. সরকার -এর জীবনী…
জাদুসম্রাট পি. সি. সরকার
জাদুসম্রাট পি. সি. সরকার
ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল : বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশে জাদুবিদ্যার ইতিহাস অতি প্রাচীন। সেই তখন থেকে আজ পর্যন্ত জাদুর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে যে কজন বিশ্বসেরা জাদুকরের নাম সবার আগে নিতে হবে, তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন প্রতুলচন্দ্র সরকার, যিনি বিশ্বের কোটি কোটি জাদুপ্রিয় মানুষের কাছে পি. সি. সরকার নামেই সমধিক পরিচিত। জাদুর ইতিহাস যিনি এক কিংবদন্তি পুরুষ। তাঁকে “জাদুসম্রাট” নামেও আখ্যা দেয়া হয়।
কৃতিপুরুষ পি. সি. সরকারের জন্ম তৎকালীন ময়মনসিংহ জিলার টাঙ্গাইল মহকুমার (বর্তমানে জিলা) আশেকপুর গ্রামের এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী। তাঁর বাবার নাম ভগবানচন্দ্র সরকার এবং মায়ের নাম কুসুমকাহিনী দেবী। প্রতুল ছিলেন বাবা মায়ের বড় ছেলে। তারা ছিলেন দুই ভাই। তাঁর আরেক ভাই অতরচন্দ্র সরকারও পরে জাদুবিদ্যায় সুনাম অর্জন করছিলেন।
টাঙ্গাইলের শিবনাথ হাইস্কুলে শুরু হয় তার শিক্ষাজীবন। বাল্যকাল থেকেই জাদুখেলার প্রতি নেশা ছিল প্রতুলের। তাদের পরিবারের অনেকে আগে থেকেই জাদুখেলা দেখাতেন। সেই বংশগত ঐতিহ্যই তার ওপর বেশী প্রভাব ফেলেছিল। তিনি তার জাদুবিদ্যার প্রাথমিক ধারণা নেন গুনপতি চক্রবর্তীর কাছ থেকে। তিনি যখন সপ্তম/অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র, তখন থেকে মজার মজার জাদুর খেলা দেখিয়ে সবাইকে অবাক করে দিতেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি পাঠ্যপুস্তুকের পাশাপাশি জাদুর বইও পড়তে শুরু করেন। স্কুলের লাইব্রেরিতে জাদু শেখার ওপর যত বই ছিল, সব পড়ে শেষ করেন তিনি।
১৯২৯ সালে তিনি প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পাশ করেন এবং করটিয়া সা’দত কলেজে ভর্তি হন। তখন কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন বিখ্যাত লেখক ও শিক্ষাবিদ ইব্রাহিম খাঁ। কলেজে এসেও চলল জাদুর ওপর পড়াশোনা আর ম্যাজিকের চর্চা। সারা কলেজে তখন তার প্রচুর নামডাক। চায়ের দোকানে, খেলার মাঠে সকলের মুখে মুখে প্রতুলের অদ্ভুত জাদুর খেলার প্রশংসা। এমন সময় একদিন সাদত কলেজ পরিদর্শন করতে এলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সপেক্টর ড. হরেন মুখার্জী এবং তার সঙ্গে এলেন কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মি. হার্লে। তাদের আগমন উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয় প্রতুলের জাদু প্রদর্শনীর। প্রতুল অনুষ্ঠানে এমন সব চমৎকার জাদুখেলা দেখালেন যে, তারা দুজনেই খুবই মুগ্ধ হয়ে গেলেন।
কলেজে এসেই তিনি নিজের নাম একটু পরিবর্তন করে রেখেছিলেন পি. সি. সোরকার। সোরকার একটি ইংরেজি শব্দ, যার অর্থ জাদুকর। তিনি নিজের পদবি সরকার বাদ দিয়ে সোরকার করেছিলেন বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ব্যাপক প্রচার লাভের জন্য। দীর্ঘদিন পর্যন্ত এই পি. সি সোরকার নামই ছিল তার। তারপর যখন বিশ্বব্যাপী খ্যাতিমান হয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন, তখন ফিরে গিয়েছিলেন নিজের পদবিতে পি. সি. সরকার। এখনো তিনি এই নামেই পরিচিত।
করটিয়া কলেজে পড়ার সময়ে তিনি হিপ্লোটিজম নামে একটি বইও লিখেছিলেন। এরপর ১৯৩১ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ডিগ্রী পড়ার জন্য তিনি ভর্তি হন ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে এসে। এই কলেজ থেকে তিনি অংকে অনার্স নিয়ে বিএ পরীক্ষা দেন। আনন্দমোহন কলেজে পড়ার সময় তিনি “ম্যাজিক শিক্ষা” নামে আরও একটি বই লেখেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি জাদুকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ইতিমধ্যে তার নাম ডাক এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে, তিনি হলে অথবা অন্য কোথাও ম্যাজিক দেখাচ্ছেন শুনলেই তা দেখতে প্রচুর দর্শক জড়ো হয়ে যেত।
১৯৩৭ সালে ২৪ বছর বয়সে তিনি সর্বপ্রথম জাপানে যান। সেখানে তিনি জাদুর খেলা দেখিয়ে প্রচুর সুনাম ও অর্থ উপার্জন করেন। বড় পরিসরে নিজের ব্যাবসার পসার জমানোর জন্য তিনি ময়মনসিংহ থেকে চলে যান কলকাতা শহরে। প্রথমে ভাড়া বাড়িতে উঠলেও পরে নিজেই বাড়ি করেন কলকাতার বালিগঞ্জে। অল্পদিনের মধ্যেই কলকাতা শহরে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে। তিনি নিয়মিত জাদুর অনুষ্ঠান করতে লাগলেন, আর সেই সঙ্গে পত্রপত্রিকাতেও শুরু করলেন জাদু বিষয়ে লেখালেখি। দুদিকেই তাঁর খ্যাতি বাড়তে লাগল।
তার জাদু নিয়ে মাঝে মধ্যে মজার মজার সব কাণ্ডও ঘটত। একবার খুবই মজার একটা কাণ্ড হয়েছিল অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হকের সময়ে। মন্ত্রিসভার এক নৈশ ভোজসভায় আয়োজন করা হয়েছিল পি. সি. সরকারের জাদুখেলার। খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল কলকাতার ইম্পেরিয়াল রেষ্টুরেন্টে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী ফজলুল হকের হাতে এক টুকরো সাদা কাগজ দিয়ে কিছু লিখতে বললেন। হক সাহেব তার কথা মতো কিছু লিখলেন। তারপর তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা সেই লেখার নিচে স্বাক্ষর করলেন। এরপর স্বাক্ষরিত পত্রটি প্রতুল পড়তে দিলেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ কমিশনার মি. কলসনের হাতে। তিনি পড়তে লাগলেন:
“আমরা সর্বসম্মতিক্রমে সকলে এই মুহূর্তে মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করিলাম এবং আজ হইতে জাদুকর পি. সি. সরকার বাংলার মুখ্যমন্ত্রি হইলেন।”
সবাই বিস্ময়ে হতবাক। শেরে বাংলা অবাক হয়ে বললেন যে, তিনি তো এমন কোন কথাই কাগজে লেখেননি। মন্ত্রিরাও বললেন তারাও যে কাগজে সই করেছেন, তাতে এমন কোন কথা ছিল না। তাহলে এমন হলো কেমন করে! এ রকমই মজার ছিল পি. সি. সরকারের খেলা। এটা ছিল ফোর্স রাইটিং এর জাদু। পরের দিনের পত্রপত্রিকায় এই রসিকতাপুর্ণ উচ্চমানের জাদুখেলার খবরটি ছাপা হয়েছিল বেশ ফলাও করে।
১৯৩৭ সাল। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম তখন তুঙ্গে। এই সংগ্রামে পুর্ণ সহযোগিতা করেছিলেন পি. সি. সরকার নিজেও। স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নায়ক রাজবিহারী বসু তখন জাপানে। সেখানেই তিনি ডেকে পাঠালেন পি. সি. সরকারকে। সেই ডাকে তৎক্ষণাৎ সাড়া দিয়ে পি. সি. সরকারও রওনা হয়ে যান জাপানের পথে। কিন্তু বার্মায় এসেই তাঁর খেলার যাবতীয় সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেল। কিন্তু তিনি দমলেন না। খালি হাতেই গিয়ে পৌছালেন রাসবিহারী বসুর ওখানে। এরপর খালি হাতেই তিনি খেলা দেখাতে শুরু করলেন। বলতে গেলে জাপানের মানুষ যেন পাগল হয়ে গেল তার খেলা দেখার জন্য। যেখানেই তিনি যান, সেখানেই হাজার হাজার লোকের ভিড়। ফলে টিকিট বিক্রি থেকে প্রচুর টাকা আসতে লাগল হাতে। এইভাবে অর্জিত সব টাকাই তিনি দান করে ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্বার্থে
এইভাবে জাদুর খেলা দেখিয়ে তিনি ঘুরে বেড়ালেন সারা ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া এবং জাপান থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রায় সকল দেশ। বিশ্বের এমন কোন দেশ বোধ হয় নেই, যেখানে তার জাদুর খেলা প্রদর্শিত হয়নি এবং যেখানেই গেছেন তিনি সেখানেই পেয়েছেন প্রাণঢালা সংবর্ধনা। তার নাম শুনলেই হাজার হাজার লোক এসে ভেঙে পড়েছে হলে।
তিনি লাভ করেছেন বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ১৯৪৬ এবং ১৯৫৪ সালে স্টেজ ম্যাজিকের জন্য আমেরিকার জাদুবিদ্যার নোবেল প্রাইজ বলে খ্যাত “দ্যা ফিনিক্স” পুরস্কার পেয়েছেন যেমন, তেমনি পেয়েছেন জাদুকরদের জন্য সবচেয়ে বড় জার্মান পুরস্কার জার্মান মেজিক সার্কেল থেকে প্রদত্ত “দ্য রয়াল মেডিলিয়ন” । হল্যাণ্ড থেকে দুবার পেয়েছেন ট্রিকস্ পুরস্কার। এছাড়া ইংল্যাণ্ডের বিবিসি টেলিভিশন, অস্ট্রেলিয়া টেলিভিশন, শিকাগোর ডব্লিউ জি এ টেলিভিশনে বহুবার তার জাদুখেলা প্রদর্শিত হয়েছে। তার জাদুখেলার কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ মায়ানমারের (বার্মা) তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকিন নু তাকে অভিহিত করেছিলেন “এশিয়ার গৌরব” বলে।  
১৯৬৪ সালে ভারত সরকার তাকে সম্মানসূচক “পদ্মশ্রী” উপাধি প্রদান করে। রাশিয়ার জাদুকররা তাকে মেনে নিয়েছেন “পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাদুকর” বলে। তিনি ছিলেন ফ্রান্স, ইংল্যাণ্ড, জার্মানী, বেলজিয়াম এবং জাপানে ম্যাজিশিয়ান সমিতির অন্যতম সদস্য। আমেরিকার আর্ন্তজাতিক জাদুকর ভ্রাতৃ সংস্থার কোলকাতা শাখার নামকরণ হয়েছে তারই নামে। এছাড়া তিনি দেশে যে কত সরকারি বেসরকারি সংস্থা থেকে পুরস্কার পেয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই।
১৯৫৭ সালে পি. সি. সরকার লন্ডনের বিবিসি টেলিভিশনে করাত দিয়ে এক তরুণীকে কেটে দু টুকরো করে দেখিয়ে ছিলেন। এতে বহু টেলিভিশন দর্শক অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। পরের দিন লণ্ডনের বড় বড় পত্রিকা এই লোমহর্ষক ও বিস্ময়কর খেলার খবরের সচিত্র বিবরণ প্রকাশ করে। এই বিস্ময়কর খেলা দেখানোর পরপরই ১৯৫৭ সালের ২২ মে পি. সি. সরকারকে আমেরিকা টিভি কোম্পানিগুলো বিশেষ বিমানে করে নিয়ে যায় তাদের দেশে। ১৯৬৭ সালে তিনি আবার আমেরিকায় যাওয়ার আমন্ত্রণ লাভ করেন। এই সময় তিনি আর্ন্তজাতিক রোটারি ক্লাবের সদস্য এবং বিলেতের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির আজীবন ফেলো নির্বাচিত হন। জাদুবিদ্যার ওপর তিনি অনেকগুলো বইও লিখেছেন। ১৯৬৮ সাল নাগাদ ইংরেজি, বাংলা, ও হিন্দি ভাষা মিলিয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা মোট ২০টি।
জাদুসম্রাট পি. সি. সরকারের পারিবারিক জীবন ছিল অত্যন্ত সুশৃংখল ও শান্তিময়। ১৯৩৮ সালে তিনি টাঙ্গাইলের নামী চিকিৎসক প্রমথনাথ গুহ মজুমদারের প্রথম কন্যা বাসন্তী দেবীকে বিয়ে করেন। বাসন্তী দেবী ছিলেন একজন আদর্শ গৃহিনী। পি. সি. সরকার যখন তার জাদুর খেলা নিয়ে মগ্ন থাকতেন ঘরের বাইরে কিংবা বিদেশে, তখন সাক্ষাৎ লক্ষীর মতো সংসার সামাল দিতেন তার স্ত্রী বাসন্তী দেবী। তাদের সংসারে রয়েছে দুই মেয়ে এবং তিন ছেলে। বড় ছেলে প্রফুল্লচন্দ্র সরকার ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার। মেজ ছেলে অ্যাপ্লাইড সাইকোলজিতে মাষ্টারস করে বর্তমানে পিতার পেশায় নিয়োজত।  তিনি বর্তমানে জুনিয়র পি. সি. সরকার নামে খ্যাত। ছোট ছেলে কমার্শিয়াল পাইলট।
পি. সি. সরকারের বেশ কয়েকটি বাড়ি আছে। বালিগঞ্জে দুটো। রাসবিহারী অ্যাভেনিউতেও আছে বিশাল একটি বাড়ি। নাম ইন্দ্রজাল। ফার্ন রোর্ডে আছে আরেকটি বড় বাড়ি। নাম জাদুমহল। আর বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের বাড়ির নাম ছিল জাদুভবন। তাঁর জাদুবিদ্যা নিয়ে রঙিন চলচ্চিত্রও তৈরি হযেছে। “হিস মাষ্টারস ভয়েস” বের করেছে একটি “লংপ্লেয়িং” রেকর্ড।
তার সম্পর্কে দেশে ও বিদেশে বই বের হয়েছে ২০টির মতো। জাদু সম্রাট তার স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন :
“আগামী ১৯৭০ সালে ওসাকাতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বমেলা। এশিয়াতে আজ পর্যন্ত বিশ্বমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। এই সর্বপ্রথম হবে। আমরা ইতিমধ্যে ইন্দ্রজাল প্রদর্শনের জন্য আমন্ত্রিত হয়েছি অর্থাৎ দশমবার জাপাান আসার ব্যবস্থা হয়েই রয়েছে। আবার কত কি নতুন দেখাব। আবার জাপান কি রূপে দেখা দেবে কে জানে।”
জাদুসম্রাট পি. সি. সরকারের একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি জাদু দেখানোর সময় পরিধান করতেন ভারতীয় রাজা মহারাজাদের পোশাক। দর্শকদের মধ্যে চমক সৃষ্টি করার জন্যই তিনি এমনটা করতেন। তার এই রাজকীয় পোশাক নিয়ে একবার এক মজার কাণ্ডও ঘটেছিল। জনৈক ব্রিটিশ জাদুকর তাকে ইচ্ছেকৃতভাবে অপমান করার জন্য বলেছিলেন,
“Why you wear Princely costume? You are not of Royal birth”.
পি. সি. সরকার মৃদু হেসে বলেছিলেন :
Am I not the Prince of Magic?
পরবর্তীতে বিশ্ববাসী ঠিকই স্বীকার করে নিয়েছে যে তিনি শুধু জাদুর রাজপুত্র নন, ছিলেন জাদুর সম্রাটও। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সম্রাট। বিশ্বমেলায় আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি দলবল নিয়ে জাপানে গিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু তার আর স্বদেশ ফেরা হয়নি। জাপানেই ১৯৭১ সালের ৬ জানুয়ারি তাবেৎসু (সাপোরো) শহরে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সালে তাঁর জন্মদিনে ভারতীয় সরকার তার প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি ৫ টাকার স্ট্যাম্প চালু করে।  তাছাড়া তাঁর নামে কলকাতায় সড়কও রয়েছে।
প্রিন্ট করুন
মন্তব্য করুন