আজ ২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং; ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ; শরৎকাল

প্রসঙ্গ : আছিম প্রশাসনিক থানা | এম. কে. ফরাজী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

md582722420

একটি অঞ্চলের যাবতীয় উন্নতির প্রথম শর্ত হচ্ছে ঐ অঞ্চলের মানুষের মৌলিক চাহিদা ও নাগরিক সেবাসমূহের সহজলভ্যতা। মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা হচ্ছে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা ; সম্প্রতি চিত্ত-বিনোদনকেও মৌলিক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের নাগরিকদের যাবতীয় মৌলিক চাহিদা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে সরকার দেশজুড়ে প্রশাসনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইউনিট তৈরী করে সেখানে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে নাগরিকদের সেবা প্রদান করে। বর্তমান বিশ্বের আধুনিক রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ ইউনিটসমূহ ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও তাদের উদ্দেশ্য মূলত একটিই, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়া।

বাংলাদেশে প্রশাসনিক ইউনিটগুলো ঐতিহাসিকভাবেই পুরনো। প্রাচীনকালের শাসকগণ তাদের শাসনকার্যের সুবিধার্থে এই অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ইউনিটে ভাগ করে নিয়েছেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকদের হাত ধরেই পুরো উপমহাদেশজুড়ে শক্তিশালী প্রশাসনিক ইউনিট তৈরী হয়, যা ক্রমান্বয়ে বিবর্তিত হতে হতে বর্তমান রূপ লাভ করে। প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রকে শক্তিশালী ও জনকল্যাণমুখী করতে ব্রিটিশদের উদ্যোগের প্রশংসা করতে হয়, যদিও তৎকালীন আমলাদের অত্যাচারী মনোভাবের কথা ইতিহাসে নিষ্ঠুরতার জ্বলন্ত স্বাক্ষী হয়ে বিদ্যমান রয়েছে।

fb_img_1478582761188

পরবর্তীতে পাকিস্তান পিরিয়ড এবং স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ও সার্বিক দিক বিবেচনায় সারাদেশের মানচিত্রে কাঁটাছেড়ার ফলে নিত্যনতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, প্রশাসনিক থানা ও ইউনিয়নের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ একটি চলমান ও বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়া, যার ফলে সরকার এবং জনগণের মাঝে দূরত্ব কমে ও সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়।

বর্তমানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকার নাগরিক সেবাসমূহ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গত সাত বছরে দেশে দুইটি বিভাগের জন্ম হয়েছে এবং আরও বিভাগ হওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নবগঠিত বিভাগগুলোর উদ্দেশ্য সফল করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের অভ্যন্তরীণ ম্যাপেও কাঁটাছেড়া হবে, এটিই নিশ্চিত।

সম্প্রতি দেশের অষ্টম বিভাগ হিসেবে বৃহত্তর ময়মনসিংহের চারটি জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত হয়েছে। ফলে, এই অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন এলাকায় গণদাবির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ইউনিট স্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত, যুগোপযোগী ও আলোচিত হচ্ছে ময়মনসিংহের দক্ষিণাঞ্চলে আছিমকেন্দ্রিক একটি প্রশাসনিক থানা গঠনের দাবিটি।

ইতোপূর্বে ময়মনসিংহ জেলাসহ সারাদেশে যেসব প্রশাসনিক থানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ফুলবাড়ীয়ার আছিম তাদের চেয়ে থানা হওয়ার যোগ্যতায় কোন অংশেই পিছিয়ে নেই। এই অঞ্চলের শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও সামাজিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও সামগ্রিক উন্নতির লক্ষ্যে প্রশাসনকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর বিকল্প নেই। ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আয়তন বিবেচনা, উপজেলা ও থানা সদর থেকে অন্য প্রান্তের অবিশ্বাস্য দূরত্ব, প্রান্তিক জনগণের মৌলিক চাহিদার দুষ্প্রাপ্যতা প্রভৃতি সমস্যার আশু সমাধান ও সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলকে বিকশিত করার লক্ষ্যেই আছিমে একটি প্রশাসনিক থানা প্রয়োজন।

fb_img_1478582710169

গত ০৫ নভেম্বর, ২০১৬ ইং “আছিম প্রশাসনিক থানা” প্রতিষ্ঠার দাবিতে আছিম থানা বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত বিশাল জনসভায় আছিম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দেয়া প্রধান অতিথির ভাষণে সত্তরের নির্বাচনে ত্রিশাল ও ফুলবাড়ীয়া মিলে গঠিত আসনের এম.এন.এ. ও স্বাধীনতাউত্তর বঙ্গবন্ধু সরকারের এম.পি. অধ্যাপক আ.ন.ম নজরুল ইসলাম হাজার হাজার জনতার সামনে বলেছেন, “১৯৭৪ সালে আছিমকেন্দ্রিক প্রশাসনিক থানা প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন করলে তৎকালীন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার সিএসপি স্বয়ং সরেজমিনে এই এলাকা পরিদর্শন শেষে আছিমে থানা প্রতিষ্ঠার যোগ্যতা নিশ্চিত করে রিপোর্ট পেশ করেন। কিন্তু, পঁচাত্তুরের পটপরিবর্তনে সবকিছু ভেস্তে যায়।”

ফলে, বর্তমানে ময়মনসিংহ বিভাগের অভ্যন্তরে আছিম প্রশাসনিক থানা প্রতিষ্ঠা শুধু সময়ের দাবিই নয়, প্রায় অর্ধ শতকের পুরনো ঐতিহাসিক দায়মুক্তির যৌক্তিক উপায়ও বটে। ফলে, বঙ্গবন্ধু সরকারের অসমাপ্ত কাজটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ও শেখ হাসিনার সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নীতির সাথে তাল মিলিয়ে আছিমে একটি প্রশাসনিক থানা বাস্তবায়ন অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে।

—লেখক:

মোঃ মেহেদী কাউসার ফরাজী,

জঙ্গলবাড়ী, আছিম, ময়মনসিংহ,

০৮-১১-২০১৬ খ্রিস্টাব্দ।

প্রিন্ট করুন
মন্তব্য করুন