রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

এক নজরে শেরপুর জেলা পরিচিতি

 

223528sherpur_kalerkantho_pic

শেরপুর জেলা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। পূর্বে ১৮২৯-২০১৫ পর্যন্ত এটি ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত ছিল। শেরপুর জেলার আয়তন ১,৩৬৩.৭৬ বর্গকিলোমিটা। ১৯৮৪ সালে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে পৃথক হয়ে শেরপুর জেলা গঠিত হয়।

 

• নামকরণ ও ইতিহাস :

শেরপুরের পুর্ব নাম ছিল দশকাহনিয়া।শেরপুরে যেতে ব্রহ্মপুত্র নদ খেয়া পাড়ি দিতে হত। খেয়া পারাপারের জন্য দশকাহন কড়ি নির্ধারিত ছিল বলে এ এলাকা দশকাহনিয়া নামে পরিচিতি লাভ করে। দশকাহনিয়া থেকে শেরপুর পরগনার নামকরণ হয় ভাওয়ালের জমিদার শের আলী গাজীর নাম আনুসারে।

 

জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হবার পর পর্যায়ক্রমে পৌর শহর, মহকুমা এবং অবশেষে পাঁচটি উপজেলা নিয়ে ১৯৮৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

• মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস :

মুক্তিযুদ্ধে শেরপুর ১১ নং সেক্টরের অধীনে ছিলো। শেরপুর স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর।এদিন অধিনায়ক জগজিৎ সিং অরোরা হেলিকপ্টারে শহরের দারোগা আলী পার্কে অবতরণ করেন এবং আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

 

• ভৌগোলিক সীমানা :

উত্তরে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণ ও পশ্চিমে জামালপুর জেলা ও পূর্ব দিকে ময়মনসিংহ জেলা।

 

• প্রশাসনিক এলাকাসমূহ :

শেরপুর জেলায় ৫টি উপজেলা রয়েছে; এগুলো হলো : ঝিনাইগাতী, নকলা, নালিতাবাড়ী, শেরপুর সদর এবং শ্রীবরদী।

 

নদী ও নদ :

জেলার একমাত্র নদ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র। প্রধান নদী মালঝি, মৃগী, ভোগাই, চেল্লাখালি, মহারাশি, দশানি, কর্ণজোড়া ও সোমেশ্বরী। খলং এবং কালাগাঙ এখন মৃত নদী।

1408765224

• জনবসতি :

২০১১ আদমশুমারি অনুসারে জনসংখ্যা ১৩,৩৪,০০০ জন। অধিকাংশই বাঙালী মুসলিম। এছাড়া বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলী এবং কিছু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলী রয়েছেন।

 

বর্তমান শেরপুর জেলার উত্তর সীমান্তের গাড়ো পাহাড় ও তার প্বার্শবর্তী সমতল এলাকায় কোচ, গাড়ো, হাজং, ডালু ইত্যাদি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ শতশত বছর ধরে বসবাস করে আসছেন।

 

• অর্থনীতি :

শেরপুরের অর্থনীতি বহুলাংশে ধানের চাতালের উপর নির্ভরশীল। প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কুঁড়া, তুষ সহ অনেক ছোট ছোট শিল্পের যোগান ও পরিবহন খাতের গ্রাহক হয়ে সাহায্য করছে এইসব চাতাল। তাছাড়া শেরপুর জেলার প্রধান ফসল ধান এবং পাট।

 

• দর্শনীয় স্থানসমুহ :

গজনী, মধুটিলা ইকোপার্ক, শের আলী গাজীর মাজার, জরিপ শাহ এর মাজার, শাহ কামাল এর মাজার, বার দুয়ারী মসজিদ, ঘাগড়া লস্কর খান মসজিদ, মাইসাহেবা জামে মসজিদ, পানি হাটা দিঘী, নয়ানী বাজার নাট মন্দির, রঘুনাথ জিউর মন্দির, জিকে পাইলট স্কুল, গড়জরিপা কালিদহ গাং এর ডিঙি, নালিতাবাড়ির বিখ্যাত রাবারড্যাম প্রভৃতি।

 

• বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব :

শের আলী গাজী, আফসার আলী (বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা), বিপ্লবী রবি নিয়োগী প্রমুখ।

উইকিপিডিয়া  অবলম্বনে। 

প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন
শেয়ার করুন:
  • 72
    Shares





©সর্বস্বত্ব ২০১৬-২০২০ সংরক্ষিত